April 19, 2026, 9:40 am

নাভারণে একতা বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাদ্য, গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শার নাভারণে একতা বেকারী নামের এক প্রতিষ্ঠানের নামে অস্বাস্থ্য ও নোংড়া পরিবেশ সহ নানা হয়রানি মুলক কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাওছার আলী নামে ওই বেকারির মালিক নোংড়া ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারির খাদ্য পণ্য তৈরি ও সরবরাহ করলেও খোঁজ রাখেনা স্থানীয় ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) সকালে শার্শার নাভারণ রেলস্টেশনের পাশে অবস্থিত একতা বেকারীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেকারির ভিতরে চারিদিকে নোংড়া স্যাতস্যেতে জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বাসি খাবারে তৈরিকৃত রুটি, টোস, কেক সহ বিভিন্ন পণ্য। ময়লা দূর্গন্ধে খাবারের চারিদেক মাছি ভনভন করছে। খাবারের পাশেই শুয়ে আছেন বেকারীর এক কারিগর।

এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা ছবি নিতে চাইলে বেকারির মালিক কাওছার আলী সহ কর্মরত নারী-পুরুষ কর্মচারীরা বাঁধা সৃষ্টি করে।

স্থানীয় ভাবে এই একতা বেকারির খাদ্য পণ্য ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, এখানে তৈরিকৃত রুটি, পাউরুটি, কেক, বিস্কুট গুলো খেতে বলিযুক্ত এবং ময়লার নমুনা পাওয়া যায়। যা ছোট বড় সকলের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাছাড়া মাঝে মাঝে বাসি খামির বা নষ্ট বিস্কুট ও অন্যান্য পণ্য দিয়ে টাটকা খাবার বানিয়ে বিক্রি করেন এই একতা বেকারির মালিক।

স্থানীয়রা আরো বলেন, অবৈধভাবে গড়ে উঠা এই বেকারি চালু রাখতে সাংবাদিক ও উপর মহলে বড় অংকের মাসোহারা দিয়ে একযুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই একতা বেকারি চালিয়ে আসছেন। শুধু তাই নয়। অবৈধভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এই বেকারি চালিয়ে বেকারির মালিক ইতোমধ্যে গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি। যা দেখে স্থানীয়দের মনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

অবৈধভাবে বেকারি চালু রাখা এবং এখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তার এই পণ্য তৈরির বিষয়ে জিজ্ঞেসা করলে বেকারি মালিক কাওছার আলী বলেন, এখানকার স্থানীয় সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা আছে আমার। লেখালেখি করে কিছুই হবেনা। আপনারা যা পারেন করে নেন, যা লিখবেন লেখেন। জরিমানা হলে হোক টাকা দেওয়ার অভ্যাস আছে।

এবিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ন চন্দ্র পাল বলেন, একতা বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি হওয়ার বিষয়ে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা