নোবিপ্রবি প্রতিনিধি :
আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পরিবেশ ও অ্যাকাডেমিক মানদণ্ড মূল্যায়নে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয় ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতকে। কিন্তু এই সূচকে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। শুধু সামগ্রিক চিত্রেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউটভেদেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য।
কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ও টাইমস হায়ার এডুকেশনের মতো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতকে শিক্ষার পরিবেশ মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন ও উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর কাম্য অনুপাত প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক এবং সর্বোচ্চ সহনীয় সীমা প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক ধরা হয়। সেই হিসাবে নোবিপ্রবির ৩৩টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত সহনীয় সীমার চেয়েও বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে প্রাপ্ত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নোবিপ্রবিতে বর্তমানে প্রায় নয় হাজারের মতো শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত প্রায় ২৯৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। এ হিসাবে বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত দাঁড়ায় প্রায় প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক। অর্থাৎ গড়ে ১জন শিক্ষককে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে হচ্ছে।
বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে ব্যবসা প্রশাসন বিভাগ। সেখানে বর্তমানে প্রতি ৭১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক। এরপর সমাজকর্ম বিভাগে প্রতি ৬৪ জনের জন্য ১ জন, আইন বিভাগে প্রতি ৬১ জনের জন্য ১ জন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৫৬ জনের জন্য ১ জন এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রতি ৫০ জনের জন্য ১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
শিক্ষা প্রশাসন বিভাগে প্রতি ৫১ জনের জন্য ১ জন, শিক্ষা, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস,অর্থনীতি
বিভাগে প্রতি ৪৮ জনের জন্য ১ জন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে প্রতি ৪৫ জনের জন্য ১ জন,বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে প্রতি ৪০ জনের মধ্যে ১ জন, প্রাণীবিদ্যা বিভাগে প্রতি ৩৫ জনে ১ জন, মৃত্তিকা,পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে প্রতি ৪০ জনে ১ জন শিক্ষক রয়েছে।
বাংলা বিভাগে প্রতি ৩৩ জনে ১ জন, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে প্রতি ৩১জনে ১ জন, ফলিত গণিত বিভাগে প্রতি ৩০ জনের ১ জন,
মাইক্রোবায়োলজি, ওশানোগ্রাফি বিভাগে প্রতি ২৭ জনে ১ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রতি ২৮ জনে ১ জন, এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রতি ২৮ জনে ১ জন শিক্ষক রয়েছে।
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২২ জনে ১ জন, কৃষি বিভাগে প্রতি ২৩ জনে ১ জন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রতি ২৮ জনে ১ জনে, পরিসংখ্যান বিভাগে ২১ জনে ১ জন, ফার্মেসী ২২ জনে ১ জন, ইংরেজি বিভাগে ২১জনে ১ জন, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে প্রতি ২০ জনে ১ জন, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা(ইএসডিএম) বিভাগে ১৯ এ ১ জন, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই)১৮ জনে ১ জন ও মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগে ১৯ জনে ১ জন, ফুড টেকনোলজি এন্ড নিউট্রেশন সাইন্স ( এফটিএনএস) ১৭ জনে ১ জন ও এপ্ল্যায়েড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১৮ জনে ১ জন এবং রসায়ন বিভাগে ২০ জনে ১ জন শিক্ষক রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক এ চিত্রে দেখা যায়, কয়েকটি বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত তুলনামূলক ভালো হলেও সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষকসংকট ও বিভাগগুলোর মধ্যে জনবল বণ্টনের বৈষম্য শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য বিভাগভিত্তিক শিক্ষকসংকট নিরসন ও প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন,
“নোবিপ্রবিতে শিক্ষকের সংখ্যা একেবারে খারাপ নয়। তবে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে অনেক শিক্ষক বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। শিক্ষকদের বিদেশে গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন এটা ও বাধ্যতামূলক । ফলে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের সবাই সরাসরি পাঠদান কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে পারছেন না। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শীঘ্রই
২৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দিবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। শিক্ষক নিয়োগ ও জনবল বৃদ্ধি একটি চলমান প্রক্রিয়া।”