নোবিপ্রবি প্রতিনিধি :
সাফল্যের এক যুগ পূর্তি ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (নোবিপ্রবিসাস)। শনিবার (১০ অক্টোবর) পুনর্মিলনী, প্রীতিভোজ, প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।
দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও প্রীতিভোজ। এতে সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় সংগঠনের বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা নেতৃবৃন্দ নিজেদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন।
আলোচনা সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংগঠনের বর্তমান কমিটির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ষষ্ঠ কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. ইমাম হোসেন, পঞ্চম কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি সাবিহা তাসমিম বিন্তি, তৃতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক পাঠাগার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাসিব আল আমিন, তৃতীয় ও চতুর্থ কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন পাঠান, চতুর্থ ও পঞ্চম কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল কবির ফারহান, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম এবং প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাফওয়ান উল্লাহ। এ ছাড়া সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ হাফিজ উল্লাহ শামীম বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মহিউজ্জামান, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিন এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. শিবলুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক সমিতির উপদেষ্টা ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির এক যুগ পূর্তিতে আমি এর সাবেক ও বর্তমান প্রতিটি সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করে আসছে। বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে কাজ করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও অনিয়ম তুলে ধরবেন—এটাই প্রত্যাশা। তবে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান না হলে তা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সীমিত বাজেট ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করছে। প্রশাসন ও সাংবাদিকেরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নন; সবাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য। পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্বশীলতা ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে তিনি সাংবাদিক সমিতির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে সংগীত পরিবেশন করে ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় লোকব্যান্ড ‘সন্ধি’। আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যা আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হয় এ আয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
২০১৪ সালের ১১ অক্টোবর চার সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি। দীর্ঘ এক যুগের পথচলায় ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি সাংবাদিকতার চর্চা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনীর এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হয়েছে।