২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব স্কুলে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ‘মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ রিটটি দায়ের করেন।
রিটে শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং মাউশির উপ-সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি এস. এম মনিরুজ্জামান ও বিচারপতি এস. এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হতে পারে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হয়। তবে সম্প্রতি সরকার লটারি পদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ১৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি বহাল থাকলেও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হবে পরীক্ষার মাধ্যমে।
এ সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। রিটকারীর আইনজীবী জাহিদ তালুকদার বলেন, পর্যাপ্ত গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্কুল পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে শিশুদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কোচিং বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পিছিয়ে পড়লে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
এসব কারণ দেখিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।