বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ কেউ তাদের ‘সুপ্ত’ কিংবা ‘গুপ্ত’ বলতে পারে না।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন-সংলগ্ন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, বিগত শাসনামলে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছেন, মার খেয়েছেন। কিন্তু তারা আত্মপ্রতারণার আশ্রয় নেননি। খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ তাদের কেউ ‘সুপ্ত’ কিংবা ‘গুপ্ত’ বলতে পারে না।
আবরার ফাহাদ হত্যার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে প্রতিবাদ করায় আবরারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই ও ৫ আগস্টের আন্দোলনে প্রতিবাদের বিস্ফোরণ ঘটে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দেশের মাটি ও স্বার্থের প্রশ্নে আবরার ফাহাদই ছিল আপসহীন লড়াইয়ের প্রথম শহীদ। আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়ছি, কিন্তু দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা কখনোই কারও কাছে আত্মসমর্পণ করব না।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আবরার ফাহাদকে হত্যার মাধ্যমে তৎকালীন সরকার বিরোধীদের মধ্যে ভয় তৈরি করতে চেয়েছিল। তবে ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদই পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকে আরও তীব্র করে এবং সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামতে অনুপ্রাণিত করে।
সভায় আবরার ফাহাদ হত্যাসহ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, আবরার হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম প্রতিবাদ করেছিল ছাত্রদল। দীর্ঘ সময় ধরে নানা নির্যাতনের পরও ছাত্রদল রাজপথ ছাড়েনি।
অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।