October 18, 2026, 10:49 pm

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

গ্রামে সচেতনতার অভাবে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় দেরি, উদ্বেগ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

গ্রামাঞ্চলে স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতার অভাব ও সামাজিক সংকোচের কারণে অনেক নারী সময়মতো চিকিৎসা নিচ্ছেন না। এতে তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, চিকিৎসকেরা এগিয়ে না এলে গ্রামের অসহায় অনেক নারী বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সভা-সেমিনার কিংবা টেলিভিশনে প্রচারের মাধ্যমে গ্রামের অসচেতন নারীদের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছানো কঠিন। এ জন্য চিকিৎসকদের সরাসরি মানুষের কাছে যেতে হবে। বছরে অন্তত দুই থেকে তিন দিন ছুটি নিয়ে নিজ নিজ গ্রামে গিয়ে নারীদের স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ ও নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করার নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্তন ক্যানসার শুধু শারীরিক অসুস্থতা নয়, এটি নারীদের মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে। সামাজিক লজ্জা ও সংকোচের কারণে অনেক নারী রোগের কথা গোপন রাখেন। ফলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায় না, যা তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের সেবা পৌঁছে দিতে সরকার হেলথ ওয়েলবিং সেন্টারের মাধ্যমে কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ ও চিকিৎসক নিয়োগে সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৯৯২ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালে গ্রামের এক তরুণী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সামাজিক সংকোচের কারণে তার কাছে এসেছিলেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ওই নারী এখনো সুস্থ আছেন বলে জানান তিনি।

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে নারী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সমিতি গঠনের প্রস্তাবও দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা