October 18, 2026, 10:23 pm

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি বদলে গেলেও জামায়াত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না। বিরোধী দল হিমালয় পর্বতের মতো অটল থেকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমে এবি পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, বৈষম্য সৃষ্টি এবং বিরোধী দলের প্রস্তাব উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, গত সাত মাসে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হচ্ছে। আগের স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছিল, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন থেকেও একই দিনে শপথ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরে সরকার আলাদাভাবে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর অভিযোগ, এর মধ্য দিয়ে শুরু থেকেই জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, একজন মন্ত্রী সংসদে গণভোটের চারটি বিষয়ের মধ্যে ৪১টি তিনি নিজেই বোঝেন না বলে মন্তব্য করেছেন। অথচ জনগণ এসব বিষয়ে মতামত দিয়েছে। জনগণকে অবমূল্যায়ন করে নিজেদেরই শুধু জ্ঞানী মনে করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা মেধার ভিত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী রাষ্ট্রে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। সেই নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্ম কমিশনও এখন হস্তক্ষেপের শিকার হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

উন্নয়ন বরাদ্দে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনকে ভোট না দিলে কোনো কোনো এলাকায় বরাদ্দ দেওয়া হবে না, এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়ে বিএনপির কাছে উন্নয়ন চাওয়ার কথা বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এটা কি বিএনপির বাবার তহবিল থেকে উন্নয়ন হবে?’

শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় তহবিলে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রয়েছে। জন্ম নেওয়া শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ পর্যন্ত সবাই কোনো না কোনোভাবে এই রাষ্ট্রের অংশ। তাই উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যমূলক বক্তব্য দেওয়া রাষ্ট্রের প্রতি অপরাধের শামিল।

সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের ২০৮টি আসনে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে তা দেওয়া হয়নি বলে তাঁরা দেখেছেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনে এত মানুষের আত্মত্যাগ কি এমন পরিবর্তনের জন্য হয়েছিল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন রাজনীতির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি মন্তব্য করে জামায়াত আমীর বলেন, জনগণ আশা করেছিল দেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হবে। কিন্তু দেশকে আবারও আগের পথে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি মহিষের ওপর কর আরোপের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

সরকারের সফলতা কামনা করেছিলেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা সরকারের পতন চাননি, বরং সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন। কারণ, সরকারের সফলতা মানেই দেশের সফলতা। তবে জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা