October 9, 2026, 11:10 pm

সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরে পাঁচ লেগুনা স্ট্যান্ড দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ মালিক-শ্রমিকদের

ঢাকা:

রাজধানীর মিরপুরে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড দখল, প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি এবং মালিকদের মারধরের অভিযোগ তুলেছে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং মালিক-চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সংগঠনটির সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী।

তিনি দাবি করেন, গত ৫ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহাব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, শামীম ও মজিবর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়। ইউনিয়নের অভিযোগ, তাঁদেরসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন স্ট্যান্ড দখল ও ফুটপাত থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টায় জড়িত।

সংগঠনটির দাবি, প্রতিটি লেগুনার বিপরীতে ৩০০ টাকা করে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মালিকদের ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া লেগুনার মালিক ইয়াকুব আলী, নজরুল ইসলাম ও বাবুলের ওপর হামলার অভিযোগও তুলে ধরে সংগঠনটি।

ইয়াকুব আলীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত চিকিৎসার কাগজপত্র ও প্রতিবেদন তাঁদের কাছে সংরক্ষিত আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। হামলার অভিযোগ জানাতে দারুস সালাম থানায় গেলেও তাঁর অভিযোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ইয়াকুব আলী বলেন, অভিযোগের পক্ষে তাঁদের কাছে ভিডিও ফুটেজ, চিকিৎসার নথি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থার কাছে এসব প্রমাণ দিতে তাঁরা প্রস্তুত। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য পরীক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে স্ট্যান্ড দখল, অস্ত্র প্রদর্শন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং লেগুনার মালিক-চালকদের নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক প্রভাব যেন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা না হয়। তাঁরা সংঘাত বা প্রতিশোধের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ চান

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা