September 16, 2026, 9:11 am

চট্টগ্রাম বিভাগের আট কারাগারে ১৯৮ বিদেশি, মাদক ও প্রতারণার মামলায় বন্দি

চট্টগ্রাম বিভাগের আটটি কারাগারে বর্তমানে ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ও কোকেনসহ মাদক পাচার, অনলাইন প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বন্দিদের মধ্যে ৩০ জন বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। আর ১৬৮ জন হাজতি হিসেবে বন্দি থেকে নিজ নিজ মামলায় বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন।

কারা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারের মধ্যে আটটিতে বিদেশি নাগরিকরা বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমার, চীন, নাইজেরিয়া, লাওস, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।

এক অভিযানে ৬৩ বিদেশি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ যৌথভাবে ওই অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নগরের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে বিদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন কক্ষে রাখা হয়েছিল। ওই ভবন থেকেই অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজারে হোটেল থেকে ছয় বিদেশি গ্রেপ্তার

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের এবং একজন তাইওয়ানের নাগরিক।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ যোগাযোগের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

ইউপিএসের ভেতরে কোকেন, গ্রেপ্তার বাহামার নাগরিক

চট্টগ্রামে বিদেশি নাগরিকদের মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যৌথ অভিযান চালিয়ে বাহামা দ্বীপপুঞ্জের গ্র্যান্ড বাহামা দ্বীপের নাগরিক স্ট্যাশিয়া শ্যান্টিয়া রোলকে ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম কোকেনসহ আটক করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও পুলিশ যৌথভাবে ওই অভিযান চালায়। ৫৩ বছর বয়সী ওই নারীর সঙ্গে থাকা একটি কম্পিউটার ইউপিএসের ভেতর থেকে কোকেনের চালান উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় মামলা হয়। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন স্ট্যাশিয়া শ্যান্টিয়া রোল।

কোকেনের ওই চালান তদারকিতে জড়িত থাকার অভিযোগে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দুই নাইজেরিয়ান নাগরিক আফিজ ওয়াহাব ও ইকোচুকু এনওয়াগডকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ফুটবল খেলোয়াড় এবং দেশের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলতেন। পুলিশের অভিযোগ, ফুটবল খেলার আড়ালে তারা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোন কারাগারে কত বিদেশি বন্দি

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আটটি কারাগারে থাকা ১৯৮ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে ১৬৮ জন হাজতি এবং ৩০ জন কয়েদি।

কারাগারভিত্তিক হিসাব হলো:

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার: ৮৩ জন, এর মধ্যে কয়েদি ১৩ জন
কক্সবাজার কারাগার: ৬১ জন
কুমিল্লা কারাগার: ২ জন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার: ১ জন
নোয়াখালী কারাগার: ১ জন
ফেনী-১ কারাগার: ৩ জন
রাঙামাটি কারাগার: ২ জন
বান্দরবান কারাগার: ৪৫ জন

কারা বিভাগের তথ্য বলছে, এসব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের নাগরিকদের বড় একটি অংশ মাদক মামলার আসামি বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া বলেন, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে অনেক বিদেশি নাগরিক বিভাগের কারাগারগুলোতে বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমার, চীন, নাইজেরিয়া, লাওস ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। মিয়ানমারের বন্দিদের বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারাগারগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের একটি অংশ মাদক মামলায় এবং অন্যরা অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিচারাধীন। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশিদের জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক অভিযান ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে অপরাধের ধরন ও বিস্তার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা