September 10, 2026, 6:14 am

নারায়ণগঞ্জে ১০ হত্যা: শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির মামলায় আজ পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণ হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এ মামলায় এরই মধ্যে চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে।

মামলার সাক্ষীরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনা ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নামও উল্লেখ করছেন তারা। গত ৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া জবানবন্দিতে ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন শহীদ রাসেলের বাবা।

মামলার ১২ আসামিই বর্তমানে পলাতক। শামীম ওসমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।

এর আগে গত ১৩ মে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ১২ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে ১০ জুন সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লার সাইনবোর্ড ও আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল এবং ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জন নিহত হন। দ্বিতীয় অভিযোগে ২১ জুলাই ফতুল্লার ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচারকাজ চলছে। তাদের পক্ষে সরকারি খরচে তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা