ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা করছেন, তা চীন ও রাশিয়ার কারণে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দুই বাণিজ্যিক অংশীদার চীন ও রাশিয়ার ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব সীমিত হওয়ায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এটিকে ‘এখন পর্যন্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ এবং ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এমন সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গেলে বড় বাধার মুখে পড়বে। কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেন, চীন, রাশিয়া এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মতো শক্তিগুলোর সহযোগিতা ছাড়া ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের উদ্যোগ কার্যকর করা কঠিন হবে।
এদিকে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপের সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি মার্কিন নীতিকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
ইরান সম্প্রতি ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ব্রিকসের দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেনের কথাও জানিয়েছে। তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলী আকবর দারেইনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘শ্বাসরোধকারী’ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নেবে।