July 15, 2026, 9:25 pm

বাংলাদেশে উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না-সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার কোনভাবে কোন চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না বলে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে চরমপন্থা বা উগ্রবাদের ঠাঁই হবে না। সরকারি ও বিরোধী দল কোন কোন বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও, অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। উগ্রবাদ ও চরমপন্থা প্রশ্নে বিরোধী দলের সম্পূর্ণ সহযোগিতা পাব বলে বিশ্বাস করি।

বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে বিএনপি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ-অঙ্গীকারাবদ্ধ। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। একটি বিশেষ দেশকে সুবিধা দিতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষখাতকে ধ্বংস করা হয়েছিল। বিএনপি সরকার ‘ইউনিভারসেল কার্ড’ চালু করবে। এক কার্ডে সব সুবিধা মিলবে।

এর আগে প্রশ্ন উত্তরে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেবে না সরকার। স্বাধীনতার পর শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নে যে রাজনীতিকরণ হয়েছে, তা নিরসনে সরকার বিস্তারিত গবেষণা হবে।

সংসদের রীতি অনুযায়ী বিরোধী দলের সঙ্গে মতভিন্নতা থাকলেও শত্রুতা নেই জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিহিংসা প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায় পরায়ণতা; এই বাংলাদেশ আর যাতে কখনো কোনভাবেই ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আর যাতে এই প্রিয় মাতৃভূমি তাবেদারী রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে- এই প্রশ্নে বিরোধী দল এবং সরকারি দল মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী সমাপনী ভাষণে বলেন, একটি বিশেষ দেশকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ফ্যাসিবাদী-স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে অন্য কারো হাতে মনে হয় তুলে দিয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদরা চেয়েছিলেন বাংলাদেশে ন্যায় বিচার ও ন্যায়পরায়ণতা থাকবে; ধনী-গরিব কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। যে বাংলাদেশে চরমপন্থা বা উগ্রবাদের ঠাঁই হবে না। এই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে কেউ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করবে না। শহীদদের রক্তের ঋণ করতে হলে এই বিষয়গুলোর প্রতি অবশ্যই নজর দিতে হবে।

সরকার বাংলাদেশকে কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষ ন্যুনতম রাষ্ট্রীয় সেবা পাবেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দিয়েছে। এই সবগুলো কার্ডকে এক সময় আমরা ইউনিভার্সেল কার্ড নামে একটি কার্ডের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। আমরা তা করব।

রাষ্ট্র নাগরিকদের দায়িত্ব মেটাতে ব্যর্থ হলে নাগরিক ও রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়বে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এসব সুবিধা রাষ্ট্রে করুণা নয়, জনগণের দায়। ভবিষ্যতে যদি স্বৈরাচার-তাবেদার রুখতে চাই- তাহলে অবশ্যই রাষ্ট্র ও জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আশা করি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারব।

অর্থনীতিকে ঋণের পরিবর্তে বিনিয়োগ নির্ভর করতে চান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতি হবে মূল চালিকা শক্তি। সরকার এমনভাবে পরিকল্পনা করেছে, যাতে ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির কাছাকাছি যেতে পারি।

দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দুর্নীতির মাধ্যমে স্বৈরাচারের সময়ে প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করতে দেওয়া হয়েছে। সেই দুর্নীতিতে হাত বেঁধে হোক আর টুটি চেপে ধরে হোক- নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

তারেক রহমান বলেন, এই সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলাম। আগেও বলেছি, আজও বলছি। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ-অঙ্গীকারাবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের আমলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। এর অন্যতম শিক্ষাখাত। সেই সময় নকলকে উৎসাহিত করা হয়েছিল। অটোপাস দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও আমরা এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। আমার কেন যেন মনে হয় ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠী, দেশকে খুশি করতে এই শিক্ষাখাততে ধ্বংস করার নীতি গ্রহণ করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে আমরা শুধু উন্নয়নের গল্প শুনেছি। দেড় দশকে বিদ্যুতখাতে হরিলুট হয়েছে কমপক্ষে তিন লাখ কোটি টাকা। জ্বালানি খাতকে সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর করা হয়। জ্বালানীর আপদকালীন মজুদের ওপর কোনো নজর তারা দেয়নি।

তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি ব্যবসা বাণিজ্য থেকে সকল বাধা সরিয়ে দিতে পারি; দুর্নীতিকে যদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি; ন্যায় ভিত্তিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি; রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারি- তাহলে আমি দৃঢ় বিশ্বাসী যে, শহীদদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।

দুর্নীতি-দুঃশাসন-ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের কবলে পড়ে শুধু রাজনীতি অর্থনীতি নয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে বলে মনে করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, দেশ গঠনে মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। সকল সংসদ সদস্য যার যার এলাকায় মানবিক দায়িত্ব গ্রহণ করলে, কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনতে পারব।

তারেক রহমান বলেন, বাজেট নিয়ে যারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন, তারাও বলেছেন এবারের বাজেটটি জনবান্ধব। এই বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে আমি সরকারি প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করি।

 

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা