July 10, 2026, 6:17 pm

ডুমুরিয়ায় অবৈধ ক্লিনিকের মহোৎসব: কঠোর অভিযানের হুঁশিয়ারি সিভিল সার্জন ও ইউএনও’র

ডুমুরিয়া (খুলনা প্রতিনিধি :

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলাজুড়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। উপজেলার ডুমুরিয়া সদর, চুকনগর, আঠারো মাইল, শাহপুর, রঘুনাথপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে লাইসেন্সবিহীন এসব চিকিৎসালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। মানহীন এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিয়ত অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

লাইসেন্সবিহীন ও মানহীন এসব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার কাজল মল্লিকের কঠোর অবস্থানের পর এবার সরাসরি মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

ডুমুরিয়াসহ পুরো জেলায় অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দৌরাত্ম্য বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন:

“বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। ডুমুরিয়াসহ খুলনার কোথাও অবৈধ বা শর্ত ভঙ্গকারী কোনো ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা ইতিমধ্যে একটি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছি। যেসব ক্লিনিকের বৈধ লাইসেন্স নেই, দক্ষ জনবল বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই, তাদের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। খুব শিগগিরই আমরা জেলাজুড়ে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযানে নামছি। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোনো অপশক্তির কাছে আপস করা হবে না।”
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন:

“যত্রতত্র অবৈধভাবে ক্লিনিক গড়ে তুলে মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করছি। খুব দ্রুতই উপজেলার ডুমুরিয়া সদর, চুকনগর, আঠারো মাইল, শাহপুর ও রঘুনাথপুরসহ সকল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হবে। এই অভিযানে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি সিলগালা করাসহ মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে অবৈধভাবে ক্লিনিক পরিচালনার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ক্লিনিক মালিকের কাছে জানতে চাইলে তারা সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। তবে কেউ কেউ দাবি করেন, তারা লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছেন। আবার অনেকেরই কোনো বৈধ কাগজপত্র বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই বলে তারা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং স্থায়ীভাবে এই চিকিৎসাবাণিজ্য বন্ধ করতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা হোক।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা