কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠেছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গত চারদিন ধরে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে পানি বেড়ে যাওয়ার খবর জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে বানের পানিতে নৌকা ডুবে এক কিশোরী মারা গেছে। রান্নাঘর ও নলকূপ ডুবে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় সুপেয় পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৫-৬ লাখ মানুষ এই জলদুর্যোগে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দুর্গতদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে আব্দুল মালেক (৪০) তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ ঝড়োহাওয়ার কারণে তাদের নৌকা ডুবে যায়। মালেক, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে সাঁতার কেটে কূলে ফিরতে পারলেও বড় মেয়ে হাসনাতুল জন্নাত ঝর্ণা (১৩) নিখোঁজ হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করতে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে যায়। বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে, মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বন্যার পানিতে পড়ে ৩ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১৮টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসন মাইকিং করলেও অনেক পরিবার আগেভাগে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেনি।
জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানিয়েছেন, ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় নগদ ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিকটন চাউল মজুদ রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।