বাংলাদেশ সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে দুই ধাপের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। তিন ধাপে কার্যকর করার পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে সরে এসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মূল বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর করার ফলে প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।
সূত্র জানায়, বেসিক বেতন শতাংশের ভিত্তিতে ভাগ করে ফিক্সেশন করা হলে দেশের সব সরকারি দপ্তরে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। এতে সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় বাড়বে এবং নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। কর্মচারী নেতারা মূল বেতন একবারেই কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, ২০১৫ সালের পে-ফিক্সেশন ম্যানুয়ালি পরিচালিত হতো, যা সহজে সমন্বয় করা যেত। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়, ফলে ধাপে ধাপে বেতন কার্যকর করা হলে প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়বে এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও জানান, অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি (পিআরএল) শেষে চাকরি থেকে বিদায় নেওয়া কর্মচারীরা সমস্যায় পড়বেন, কারণ তাদের পাওনা একবারেই পরিশোধ করতে হয়। ধাপে ধাপে বেতন কার্যকর হলে তাদের পাওনা নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
আব্দুল মালেক বিকল্প প্রস্তাবও দিয়েছেন, যেখানে প্রথম ধাপে মূল বেতন শতভাগ কার্যকর করার পর দ্বিতীয় ধাপে বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করা যেতে পারে। এভাবে বাস্তবায়ন করলে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না এবং অবসর নেওয়া কর্মচারীরাও তাদের প্রাপ্য অর্থ এককালীন বুঝে পাবেন।