পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ইরান একটি সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব দেবে। সূত্রগুলো বলছে, শুক্রবারের মধ্যেই এর উত্তর আসতে পারে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রকৃত অবস্থা তিনি ও অল্প কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানেন না। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, প্রকাশ্যে স্থবিরতা দেখা গেলেও আলোচনা এগোচ্ছে। যদিও তিনি ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও স্বীকার করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার বলেন, আলোচনা টেলিফোনে চলছে এবং ইরানের যেকোনো প্রস্তাবে তার প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার প্রস্তাব কতটা দূর পর্যন্ত যায় তার ওপর। এর আগে ইরানের প্রস্তাবে প্রথমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং পরে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার কথা বলা হয়েছিল, যা ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেন।
ওদিকে ট্রাম্প কংগ্রেসের সেই প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছেন, যার লক্ষ্য তার যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করা। সর্বশেষ এমন একটি প্রস্তাব বৃহস্পতিবার সিনেটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত একটি আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সময়সীমা নিয়ে কংগ্রেসে মতবিরোধ রয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করার চাপের অংশ হিসেবে হালনাগাদ সামরিক বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফিং পাওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্প নিয়মিতই সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে আপডেট পান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তার আগের অনাগ্রহ কমেছে, এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি সরকারগুলোর ওপর চাপ দিচ্ছে, যাতে তারা হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি নতুন জোটে যোগ দেয়। ইরান যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের জন্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি তাদের দেশের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক পদক্ষেপের সমান।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি স্পেন ও ইতালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। কারণ ইরান যুদ্ধ নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে মতবিরোধের মধ্যে ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ইউরোপীয় নেতাদের ইরান যুদ্ধের বিষয়ে সহযোগিতা না করায় ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে তিনি বিশেষ করে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের সমালোচনা করেন পুনরায়।