-
- আন্তর্জাতিক
- ট্রাম্প অসংযত, ভারসাম্যহীন: সিআইএর সাবেক প্রধান
- আপডেটের সময় : এপ্রিল, ১৩, ২০২৬, ৫:২১ পূর্বাহ্ণ
- 47 বার দেখা হয়েছে
সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) সাবেক প্রধান জন ব্রেনান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী যেন ট্রাম্পকে মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছিল। এই ২৫তম সংশোধনী প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার ও দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। শনিবার মার্কিন গণমাধ্যম এমএস নাউ-এ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ব্রেনান বলেন, ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রমাণ করে যে তিনি ‘স্পষ্টতই ভারসাম্যহীন’ এবং তাকে প্রধান সেনাপতি হিসেবে রাখা অনেক মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
ব্রেনান যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে থাকা তাকে এক ধরনের অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকিতে পরিণত করেছে। সিআইএর সাবেক প্রধানের এই মন্তব্য ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং তার ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক ভাষা নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
৭ এপ্রিল ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান তার দেয়া চূড়ান্ত শর্ত না মানলে ‘আজ রাতেই পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ ব্রেনান বলেন, এই ভাষা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তি স্পষ্টতই অসংযত। আমার মনে হয় ২৫তম সংশোধনী ডনাল্ড ট্রাম্পকে মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল।’
২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মারা গেলে, পদত্যাগ করলে বা অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব নেন। এছাড়া ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হলে তা পূরণের পদ্ধতিও এতে উল্লেখ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- এই সংশোধনী অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সাময়িকভাবে ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে হস্তান্তর করা যায়। এই সংশোধনী ১৯৬৫ সালে ৮৯তম কংগ্রেসের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যগুলোর কাছে পাঠানো হয় এবং ১৯৬৭ সালে অনুমোদিত হয়। এনবিসি নিউজ-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ৭০ জনের বেশি ডেমোক্রেট সদস্য ইতিমধ্যে এই সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বাস্তবে এমন পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পুরো মন্ত্রিসভা এখনো ট্রাম্পের প্রতি অবিচল সমর্থন বজায় রেখেছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ায় ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে ব্রেনান নিজেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের একটি সক্রিয় ফৌজদারি তদন্তের মুখে রয়েছেন। ব্রেনানসহ অনেকের মতে, এটি তাদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ।
হোয়াইট হাউসের অনুরোধে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ব্রেনান এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সাবেক পরিচালক জেমস কোমি- দু’জনের বিরুদ্ধেই তদন্ত শুরু করে। দুই মাস পর কোমির বিরুদ্ধে ২০২০ সালে কংগ্রেসে দেয়া সাক্ষ্যে মিথ্যা বলার অভিযোগে দুটি অভিযোগ আনা হয়।
এই বিভাগের আরও খবর
- সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের
- ইরান যুদ্ধ চালাতেই হবে: ট্রাম্প
- যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে নিহত ১৭৫ আইএস জঙ্গি
- সিবিএসের প্রতিবেদন হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ১০টি মাইন শনাক্তের দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের
- পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে অপসারণ করা হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে ঘটনার প্রায় চার বছর পর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছে একটি মার্কিন গণমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে ক্ষেপে গিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ‘ফ্রম মিউচুয়াল সাসপিশন টু পলিটিক্যাল এমব্রেস: হাউ দ্য ইউএস লার্নড টু স্টপ ওয়ারিয়িং অ্যান্ড লাভ পাকিস্তান’ শিরোনামে সোমবার ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’। এর একটি অংশে ইমরান খানকে অপসারণের প্রক্রিয়া এবং এতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে তারা গোপন কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতিবেদনটির ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ উপশিরোনামের অংশে গণমাধ্যমটি লিখেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেন। এরপর রাশিয়াকে দমানোর বিষয়টি তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ওই সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন আকস্মিক এক ঝড়ের মাঝে পড়ে পাকিস্তান। ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। সেদিনই পূর্ব নির্ধারিত একটি সফরে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পুতিনের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। তবে এই সফরের কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফকে ফোন করেছিলেন জো বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি ইমরান খানের মস্কো সফর বাতিলের তাগিদ দেন। ইউসুফ ও সুলিভানের ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপের বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, সুলিভান ওই সফরের বিষয়ে ইসলামাবাদকে সতর্ক করেছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিতে তিনি পাকিস্তানকে চাপ দেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর খবর যেদিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেদিনই পুতিন ও ইমরান খানের বৈঠকের একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দুই নেতা করমর্দন করছিলেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, কয়েক মাস ধরে ওই সফরটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই সেটি বাতিলের সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন বৈঠকটিকে সহজভাবে নেয়নি। পুতিন-ইমরান বৈঠকের কয়েকদিন পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব তোলা হয়। তাতে চীন, ভারত ও গ্লোবাল সাউথের বেশিরভাগ দেশ ভোট দিলেও পাকিস্তান বিরত থাকে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের মস্কো সফর এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ায় মার্কিন কূটনীতিকরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে তাঁরা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের জানাতে শুরু করেন, দুই দেশের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ২০২২ সালের ৭ মার্চ ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান। পরে মজিদ ও লুর কথোপকথনের অত্যন্ত গোপনীয় একটি কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হয়। যেটি সাইফার নামে পরিচিত। তারবার্তার বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, পাকিস্তানি দূতকে ডোনাল্ড লু বলেছিলেন, ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের যে ক্ষোভ তা এড়ানো সম্ভব। লু আরো বলেছিলেন, ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ অর্থাৎ সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এই বাক্যটির উদ্ধৃতি দিয়ে পরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘যদি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।’ পরের মাসে (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইয়ের যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনের এসব বিষয় তখন এড়িয়ে যায়। ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি, আদালত অবমাননা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটনকে যা যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সামরিক সমর্থনপুষ্ট বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে তা সরবরাহ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তান গোপনে ইউক্রেনের কাছে গোলাবারুদ পাঠায়। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, ওই অস্ত্রগুলো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল। বিনিময়ে পাকিস্তান পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়
- ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান
- আরব দেশগুলোর অনুরোধে ইরানে নতুন হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
- আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বেড়ে গেছে: শুভেন্দু অধিকারী
- বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের পদত্যাগের পরিকল্পনা নেই: ডেভিড ল্যামি
- ইবোলায় ৯০ জনের মৃত্যু, কঙ্গো-উগান্ডায় জরুরি অবস্থা জারি