April 14, 2026, 11:22 pm

ট্রাম্প অসংযত, ভারসাম্যহীন: সিআইএর সাবেক প্রধান

সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) সাবেক প্রধান জন ব্রেনান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী যেন ট্রাম্পকে মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছিল। এই ২৫তম সংশোধনী প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার ও দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। শনিবার মার্কিন গণমাধ্যম এমএস নাউ-এ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ব্রেনান বলেন, ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রমাণ করে যে তিনি ‘স্পষ্টতই ভারসাম্যহীন’ এবং তাকে প্রধান সেনাপতি হিসেবে রাখা অনেক মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

ব্রেনান যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে থাকা তাকে এক ধরনের অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকিতে পরিণত করেছে। সিআইএর সাবেক প্রধানের এই মন্তব্য ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং তার ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক ভাষা নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

৭ এপ্রিল ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান তার দেয়া চূড়ান্ত শর্ত না মানলে ‘আজ রাতেই পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ ব্রেনান বলেন, এই ভাষা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তি স্পষ্টতই অসংযত। আমার মনে হয় ২৫তম সংশোধনী ডনাল্ড ট্রাম্পকে মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল।’

২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মারা গেলে, পদত্যাগ করলে বা অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব নেন। এছাড়া ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হলে তা পূরণের পদ্ধতিও এতে উল্লেখ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- এই সংশোধনী অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সাময়িকভাবে ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে হস্তান্তর করা যায়। এই সংশোধনী ১৯৬৫ সালে ৮৯তম কংগ্রেসের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যগুলোর কাছে পাঠানো হয় এবং ১৯৬৭ সালে অনুমোদিত হয়। এনবিসি নিউজ-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ৭০ জনের বেশি ডেমোক্রেট সদস্য ইতিমধ্যে এই সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে বাস্তবে এমন পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পুরো মন্ত্রিসভা এখনো ট্রাম্পের প্রতি অবিচল সমর্থন বজায় রেখেছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ায় ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে ব্রেনান নিজেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের একটি সক্রিয় ফৌজদারি তদন্তের মুখে রয়েছেন। ব্রেনানসহ অনেকের মতে, এটি তাদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ।

হোয়াইট হাউসের অনুরোধে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ব্রেনান এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সাবেক পরিচালক জেমস কোমি- দু’জনের বিরুদ্ধেই তদন্ত শুরু করে। দুই মাস পর কোমির বিরুদ্ধে ২০২০ সালে কংগ্রেসে দেয়া সাক্ষ্যে মিথ্যা বলার অভিযোগে দুটি অভিযোগ আনা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা