April 14, 2026, 11:24 pm

ইরানকে দমনে সফল হয়নি যুক্তরাষ্ট্র, উভয়কেই নমনীয়তা দেখাতে হবে

ডনের সম্পাদকীয় ,ইরানকে দমনে সফল হয়নি যুক্তরাষ্ট্র, উভয়কেই নমনীয়তা দেখাতে হবে

শনিবার শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা না গেলেও কোনো বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি। দুই পক্ষের প্রতিনিধিদল রবিবার ইসলামাবাদ থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছে। তবে আপাতত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের পর শুরু হওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সামান্য অগ্রগতিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। আলোচনার পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিলেও তা হয়তো কেবল জনসমর্থন আদায়ের কৌশল। কারণ তিনি সঙ্গে সঙ্গে কোনো সামরিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেননি।

দুই পক্ষই যে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছে, তা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যেই স্পষ্ট। ইরানের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নেতৃত্ব দেন। ভ্যান্স ‘খারাপ খবর’ বলে আখ্যা দেন যে কোনো চুক্তি হয়নি। আর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি মাত্র বৈঠকে (এই ক্ষেত্রে ২১ ঘণ্টা) চুক্তি হওয়ার প্রত্যাশা ছিল না।
মূল বিষয়গুলোতে বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। তবে উভয় পক্ষই এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে বলেই মনে হচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ ইরানকে দমন করতে তারা সফল হয়নি- না হলে শান্তি আলোচনার জন্য এত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাত না। তাই অবিশ্বাস থাকলেও কূটনীতির একটি ছোট জানালা এখনো খোলা রয়েছে। এই সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না, নইলে আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, উভয় পক্ষের জন্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একইভাবে ওমান, যারা আগের দফার আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছিল, তারাও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলো বুঝতে পারছে, আবার যুদ্ধ শুরু হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত হলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েরই শান্তি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া উচিত। ওয়াশিংটনের জন্য তেহরানের আস্থা অর্জনের একটি উপায় হতে পারে- অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা। একই সঙ্গে লেবাননে ইসরাইলের বর্বর হামলা বন্ধ করলে বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তির পরিবেশ তৈরি হতে পারে।উভয় পক্ষকেই নমনীয়তা দেখাতে হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা এবং তাদের মিত্র ইসরাইল ভবিষ্যতে আর ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের হুমকি দেবে না। এই শর্তগুলো পূরণ হলে অর্থবহ ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তবে যদি উভয় পক্ষই কঠোর অবস্থানে অটল থাকে, তাহলে সামনে আরও যুদ্ধ ছাড়া বিকল্প থাকবে না। সেটি হয়তো ইসরাইলের জন্য সুবিধাজনক। তাকে এই অঞ্চলে শান্তির সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হয়।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নিজের কাছেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়- তারা কি আবারও মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’-এ জড়িয়ে পড়তে চায়?

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা