May 27, 2026, 6:06 pm

পাকিস্তান কী শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিচ্ছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের পর উভয়সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। তিনি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনও শান্তি চুক্তির আগে পাকিস্তানসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।
‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ নামে ট্রাম্পের এই চুক্তির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, জানিয়েছেন দুই দেশের আদর্শ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি খাজা আসিফ পাকিস্তানের বর্তমান পাসপোর্ট নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ট্রাভেল ডকুমেন্টে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী মূলত এই বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যেখানে পাকিস্তানই বিশ্বের একমাত্র দেশ যার পাসপোর্টে স্পষ্টাক্ষরে ইসরায়েলকে বৈধ গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিটি পাকিস্তানি পাসপোর্টে একটি লাইন লেখা থাকে: ‘এটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ’।

পাকিস্তান যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে এই নীতি পরিবর্তন করতে হবে। কারণ এই চুক্তির অধীনে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অর্থই হলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া, সেখানে দূতাবাস বা কনস্যুলেট খোলা এবং বাণিজ্য, ভ্রমণ ও ভিসা চুক্তি করা।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাবকে ‘মৌলিক আদর্শের সংঘাত’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, যাদের কথা একটি দিনের জন্যও বিশ্বাস করা যায় না, আপনি তাদের সঙ্গে কীভাবে বসবেন? তিনি বলেন, পাকিস্তানি পাসপোর্টে ইসরায়েলের নাম পর্যন্ত নেই। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান যখন ট্রাম্পের ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেয়, তখনও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশ হওয়ার বিষয়টি ‘স্পষ্টভাবে নাকচ’ করে দিয়েছিল।

সূত্র: উইয়ন নিউজ

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা