-
- আন্তর্জাতিক
- ইরানি কর্তৃপক্ষ অনড়, সমর্থকদের রাস্তায় থাকার আহ্বান
- আপডেটের সময় : এপ্রিল, ১৩, ২০২৬, ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ
- 45 বার দেখা হয়েছে
ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, যুদ্ধ শেষ করতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ছাড় দিতে হবে। একই সঙ্গে সমর্থকদের রাস্তায় অবস্থান ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ইসলামাবাদে আলোচনায় ইরানি দলের নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, শনিবারের দীর্ঘ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল শেষ পর্যন্ত ইরানি দলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রবিবার বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করা সব জাহাজ অবরোধের প্রক্রিয়া শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সঠিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ শেষ করার যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবিগুলো ইরানি প্রতিনিধিদল প্রত্যাখ্যান করায় দেশটির কর্তৃপক্ষ রবিবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই ইসলামাবাদে যাওয়া প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা সরকারের সমর্থকদের অধিকার রক্ষা করেছে। এই সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা, যারা গত ছয় সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের প্রধান চত্বর, রাস্তা ও মসজিদে জড়ো হচ্ছেন। শনিবার রাতে যখন আলোচনা চলছিল, তখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপসের মহাকাশ বিভাগের এক সদস্যকে দেখা যায়। তিনি তেহরানের কেন্দ্রে পতাকা হাতে থাকা সমর্থকদের আশ্বস্ত করছেন। মুখ ঢেকে রাখা ওই ব্যক্তি বলেন, শত্রু যদি না বোঝে, আমরা তাকে বুঝিয়ে দেব। উপস্থিত জনতা তখন উল্লাস করে এবং তাদের কেউ কেউ আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি জানায়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরও জানায়, আলোচনার মাধ্যমে নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প।
তার অতিরিক্ত দাবিই আলোচনার ব্যর্থতার কারণ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মাত্র এক দিনের আলোচনায় কোনো চুক্তি হবে এমন প্রত্যাশা তাদের ছিল না। কঠোরপন্থীদের প্রাধান্য থাকা পার্লামেন্টের একাধিক সদস্য বলেছেন, তারা খুশি যে আলোচনায় কোনো ফল আসেনি। কারণ তাদের মতে যুদ্ধে ইরানই এগিয়ে রয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকারের ডেপুটি হামিদরেজা হাজি-বাবায়ি বলেন, রাস্তায় থাকা সমর্থকদের কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিষয় হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এমন একটি প্রস্তাব, যা যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণ নির্দেশ করবে এবং ইরান ও তার নেতাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। তেহরানের আইনপ্রণেতা আমির হোসেইন সাবেতি বলেন, লাল রেখা থেকে সরে না আসার জন্য তিনি আলোচক দলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন এবং এই দুষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে মাঠে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
এই বিভাগের আরও খবর
- সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের
- ইরান যুদ্ধ চালাতেই হবে: ট্রাম্প
- যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে নিহত ১৭৫ আইএস জঙ্গি
- সিবিএসের প্রতিবেদন হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ১০টি মাইন শনাক্তের দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের
- পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে অপসারণ করা হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে ঘটনার প্রায় চার বছর পর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছে একটি মার্কিন গণমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে ক্ষেপে গিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ‘ফ্রম মিউচুয়াল সাসপিশন টু পলিটিক্যাল এমব্রেস: হাউ দ্য ইউএস লার্নড টু স্টপ ওয়ারিয়িং অ্যান্ড লাভ পাকিস্তান’ শিরোনামে সোমবার ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’। এর একটি অংশে ইমরান খানকে অপসারণের প্রক্রিয়া এবং এতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে তারা গোপন কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতিবেদনটির ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ উপশিরোনামের অংশে গণমাধ্যমটি লিখেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেন। এরপর রাশিয়াকে দমানোর বিষয়টি তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ওই সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন আকস্মিক এক ঝড়ের মাঝে পড়ে পাকিস্তান। ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। সেদিনই পূর্ব নির্ধারিত একটি সফরে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পুতিনের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। তবে এই সফরের কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফকে ফোন করেছিলেন জো বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি ইমরান খানের মস্কো সফর বাতিলের তাগিদ দেন। ইউসুফ ও সুলিভানের ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপের বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, সুলিভান ওই সফরের বিষয়ে ইসলামাবাদকে সতর্ক করেছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিতে তিনি পাকিস্তানকে চাপ দেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর খবর যেদিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেদিনই পুতিন ও ইমরান খানের বৈঠকের একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দুই নেতা করমর্দন করছিলেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, কয়েক মাস ধরে ওই সফরটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই সেটি বাতিলের সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন বৈঠকটিকে সহজভাবে নেয়নি। পুতিন-ইমরান বৈঠকের কয়েকদিন পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব তোলা হয়। তাতে চীন, ভারত ও গ্লোবাল সাউথের বেশিরভাগ দেশ ভোট দিলেও পাকিস্তান বিরত থাকে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের মস্কো সফর এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ায় মার্কিন কূটনীতিকরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে তাঁরা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের জানাতে শুরু করেন, দুই দেশের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ২০২২ সালের ৭ মার্চ ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান। পরে মজিদ ও লুর কথোপকথনের অত্যন্ত গোপনীয় একটি কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হয়। যেটি সাইফার নামে পরিচিত। তারবার্তার বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, পাকিস্তানি দূতকে ডোনাল্ড লু বলেছিলেন, ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের যে ক্ষোভ তা এড়ানো সম্ভব। লু আরো বলেছিলেন, ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ অর্থাৎ সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এই বাক্যটির উদ্ধৃতি দিয়ে পরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘যদি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।’ পরের মাসে (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইয়ের যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনের এসব বিষয় তখন এড়িয়ে যায়। ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি, আদালত অবমাননা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটনকে যা যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সামরিক সমর্থনপুষ্ট বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে তা সরবরাহ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তান গোপনে ইউক্রেনের কাছে গোলাবারুদ পাঠায়। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, ওই অস্ত্রগুলো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল। বিনিময়ে পাকিস্তান পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়
- ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান
- আরব দেশগুলোর অনুরোধে ইরানে নতুন হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
- আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বেড়ে গেছে: শুভেন্দু অধিকারী
- বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের পদত্যাগের পরিকল্পনা নেই: ডেভিড ল্যামি
- ইবোলায় ৯০ জনের মৃত্যু, কঙ্গো-উগান্ডায় জরুরি অবস্থা জারি