ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, যুদ্ধ শেষ করতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ছাড় দিতে হবে। একই সঙ্গে সমর্থকদের রাস্তায় অবস্থান ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ইসলামাবাদে আলোচনায় ইরানি দলের নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, শনিবারের দীর্ঘ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল শেষ পর্যন্ত ইরানি দলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রবিবার বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করা সব জাহাজ অবরোধের প্রক্রিয়া শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সঠিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ শেষ করার যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবিগুলো ইরানি প্রতিনিধিদল প্রত্যাখ্যান করায় দেশটির কর্তৃপক্ষ রবিবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই ইসলামাবাদে যাওয়া প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা সরকারের সমর্থকদের অধিকার রক্ষা করেছে। এই সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা, যারা গত ছয় সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের প্রধান চত্বর, রাস্তা ও মসজিদে জড়ো হচ্ছেন। শনিবার রাতে যখন আলোচনা চলছিল, তখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপসের মহাকাশ বিভাগের এক সদস্যকে দেখা যায়। তিনি তেহরানের কেন্দ্রে পতাকা হাতে থাকা সমর্থকদের আশ্বস্ত করছেন। মুখ ঢেকে রাখা ওই ব্যক্তি বলেন, শত্রু যদি না বোঝে, আমরা তাকে বুঝিয়ে দেব। উপস্থিত জনতা তখন উল্লাস করে এবং তাদের কেউ কেউ আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি জানায়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরও জানায়, আলোচনার মাধ্যমে নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প।
তার অতিরিক্ত দাবিই আলোচনার ব্যর্থতার কারণ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মাত্র এক দিনের আলোচনায় কোনো চুক্তি হবে এমন প্রত্যাশা তাদের ছিল না। কঠোরপন্থীদের প্রাধান্য থাকা পার্লামেন্টের একাধিক সদস্য বলেছেন, তারা খুশি যে আলোচনায় কোনো ফল আসেনি। কারণ তাদের মতে যুদ্ধে ইরানই এগিয়ে রয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকারের ডেপুটি হামিদরেজা হাজি-বাবায়ি বলেন, রাস্তায় থাকা সমর্থকদের কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিষয় হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এমন একটি প্রস্তাব, যা যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণ নির্দেশ করবে এবং ইরান ও তার নেতাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। তেহরানের আইনপ্রণেতা আমির হোসেইন সাবেতি বলেন, লাল রেখা থেকে সরে না আসার জন্য তিনি আলোচক দলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন এবং এই দুষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে মাঠে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।