মোহাম্মদ আসাদ-জামালপুর ।
বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের একটি সভাকে ঘিরে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রচারিত তথ্যে বলা হয়, সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বাস ভাড়াও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে উপজেলা প্রশাসন এসব তথ্যকে অপপ্রচার বলে দাবি করেছে।
জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে জামালপুর, শেরপুর ও রৌমারী রুটে প্রতিদিন প্রায় ৪ শতাধিক সিএনজি চলাচল করে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রৌমারী রুটে জনপ্রতি ১৫০ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়। একইভাবে, বকশীগঞ্জ থেকে জামালপুর জেলা সদরের (৪০ কিলোমিটার) সিএনজি ভাড়া ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা এবং শেরপুর রুটে ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা নির্ধারণের তথ্যও ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, বকশীগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকাগামী বাস ভাড়া পূর্বে ৪০০–৪৫০ টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ৬৯০ টাকা করা হয়েছে বলে প্রচার হয়। এতে জনপ্রতি ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২৯০ টাকা।
২ মার্চ বকশীগঞ্জ উপজেলা বাস মালিক সমিতি ও পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভাড়া তালিকা প্রকাশ পেলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, দেশের কোথাও ঈদ উপলক্ষে ভাড়া বৃদ্ধির নজির নেই। সরকার নিজেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। তাই ভাড়া বৃদ্ধির প্রশ্নই আসে না।
বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ সওদাগর বিপ্লব জানান, সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সিদ্ধান্তের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, পরিবহন ও বাজার মনিটরিং বিষয়ে সভা হয়েছে, কিন্তু ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য সঠিক নয় এবং এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনাও আসেনি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জামালপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবু নাইম জানান, পরিবহন ভাড়া বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে তাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। ফলে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে বিআরটিএ অবগত নয়।
এদিকে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ঈদে যাত্রীদের যেন হয়রানির শিকার না হতে হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে শিগগিরই পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।