April 19, 2026, 11:28 am

বন্দর থানা পুলিশ কর্তৃক চাঞ্চল্যকর আলিফা আক্তার রোযামনি (১৩) হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সাল ওরফে বাদশা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি :বন্দর থানাধীন সোনাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী আলিফা আক্তার রোযামনি (১৩) গত ২১/১২/২০২৫ খ্রিঃ বিকাল অনুমান ১৬.০০ ঘটিকার সময় দড়ি সোনাকান্দা এলাকায় তাদের ভাড়াটিয়া বাসা হতে বাহিরে খেলাধুলা করার জন্য যায়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাসায় না ফেরায় ভিকটিমের মা পারভিন (৪৮) ও তার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায় না। অতঃপর ২২/১২/২০২৫ খ্রিঃ ভোর অনুমান ০৬.০০ ঘটিকার সময় তাদের প্রতিবেশী জনৈক ইয়াসমিন ও তার স্বামী আক্তার হোসেন এর মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবার জানতে পারেন যে, দেলোয়ার হোসেন-এর বসত বাড়ির সামনে একটি মেয়ের লাশ পড়ে আছে। উক্ত স্থানে গিয়ে ভিকটিমের মা পারভিন আক্তার তার মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন এবং বন্দর থানা পুলিশকে সংবাদ দেন।

বন্দর থানার এসআই (নিঃ) মোঃ ইদ্রিস আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন এবং মৃতের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয়ের জন্য জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ প্রেরণ করেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের মা পারভিন (৪৮) বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে বন্দর থানার এফআইআর নং-২৪, তারিখ-২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ রুজু করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী মহোদয়ের নির্দেশনায় বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন মামলাটির মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য এসআই (নিঃ) মোঃ ইদ্রিস আলীকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। উক্ত মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তি ও একাধিক বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ করা হয়। অতঃপর তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৩/১২/২০২৫ খ্রিঃ বিকাল অনুমান ১৬.১৫ ঘটিকার সময় বন্দর থানা পুলিশ আসামি ফয়সাল ওরফে বাদশা (২৯), পিতা-মানিক চাঁন ওরফে মানিক মিয়া, মাতা-কামিনা বেগম, সাং-দড়ি সোনাকান্দা (সোনাবিবি রোড), থানা-বন্দর, জেলা-নারায়ণগঞ্জকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আসামি ফয়সালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামির দেওয়া তথ্যমতে, বন্দর থানাধীন দড়ি সোনাকান্দা সাকিনস্থ সোনাবিবি রোডস্থ আসামির পিতা মানিক চাঁন এর নির্মাণাধীন বিল্ডিং-এর ২য় তলায় রক্ষিত ভাঙা ইটের বস্তার নিচ হতে অত্র মামলার ভিকটিম আলিফা আক্তার রোযামনি (১৩) এর ব্যবহৃত ০১ জোড়া জুতা বাদীর শনাক্ত মতে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনদের উপস্থিতিতে জব্দ করা হয়েছে। ধৃত আসামি ফয়সাল মামলার ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা