April 19, 2026, 3:34 pm

র‌্যাব-১১ এর অভিযানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক হতে ৪৯ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার,

গোপনসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিএসসি’র মাদক বিরোধী অভিযানে ২৫ এপ্রিল ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ রাত ০১.৩০ ঘটিকায় নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় রাফি ফিলিং স্টেশনের সামনে পরিচালিত র‌্যাব-১১ এর চেকপোস্টে পণ্য বোঝাইকৃত কুমিল্লা হতে ঢাকাগামী একটি হলুদ রংয়ের সন্দিগ্ধ ট্রাকে তল্লাশী করে ৪৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা পরিবহনের দায়ে ০২ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলোঃ ১। মোঃ সোহরাব হোসেন (২৮) এবং ২। মোঃ রাসেল মাহাবুব (২৭)। উক্ত অভিযানে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ০১টি ট্রাক জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, আসামী মোঃ সোহরাব হোসেন কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানাধীন চরভাকর এলাকার মোঃ আক্তার হোসেন এর ছেলে এবং অপর আসামী মোঃ রাসেল মাহাবুব একই জেলার বুড়িচং থানাধীন জগৎপুর এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। গ্রেফতারকৃত আসামীরা পরষ্পর যোগসাজশে চলমান লকডাউন পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহনের জন্য পণ্যবাহী ট্রাক এর অবাধ চলাচলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকযোগে চালক ও হেলপারের ছদ্মবেশে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য গাঁজা পরিবহন করে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় উল্লিখিত আসামীদ্বয় অদ্য ২৫ এপ্রিল ২০২১ তারিখে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য গাঁজার একটি বড় চালান নিয়ে বিক্রয় ও সরবরাহের জন্য কুমিল্লা জেলা হতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। গোপনসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিএসসি’র একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন মদনপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে ঢাকাগামী বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক তল্লাশী করতে থাকে। একপর্যায়ে রাত ০১.৩০ ঘটিকায় ঢাকাগামী ০১টি সন্ধিগ্ধ ট্রাক তল্লাশী করে ২টি প্লাস্টিকের বস্তায় ভর্তি অবস্থায় সর্বমোট ৪৯ কেজি গাঁজাসহ উক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে-নাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা স্বীকার করে যে, তারা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেলপারের ছদ্মবেশে পণ্য পরিবহনের আড়ালে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য গাঁজা পরিবহন করে আসছিল এবং উক্ত নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল। মাদক ব্যবসা তাদের একমাত্র পেশা।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা