September 25, 2026, 10:08 am

এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ । ছবি : সংগৃহীত

ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরির অভিযোগে এনসিপি নেতার ৬ মাসের কারাদণ্ড

ফরিদপুর শহরে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে অনুমোদন ছাড়াই ওষুধ তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লাবাড়ি সড়ক এলাকায় শাহেদের মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটির ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে যায়। এরপর লাইসেন্স নবায়ন না করেই অনুমোদন ছাড়া কারখানাটি পরিচালনা করে আসছিলেন বায়েজিদ হোসেন শাহেদ।

অভিযানের সময় কারখানাটিতে শিশুদের জন্য বেবি জেল, প্রাপ্তবয়স্কদের বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি ও সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া কারখানাটিতে ওষুধ তৈরির উপযুক্ত পরিবেশ ও কেমিস্ট না থাকার বিষয়টিও অভিযানে উঠে আসে। এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

পরে আদালত বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। দণ্ডের পর তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বায়েজিদ হোসেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার হাবিবুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন।

এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব সাইফ হাসান খান বলেন, ‘কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের কোনো আপস নেই। আমাদের দলের কেউ অন্যায় করে থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো বলেন, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ড্রাগ ও ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন না করে অনুমোদন ছাড়াই কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। কারখানায় ওষুধ তৈরির উপযুক্ত পরিবেশ ও কেমিস্ট না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব কারণে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয় এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা