September 26, 2026, 9:42 am

ময়মনসিংহে ড্রামে মিলল স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দী লাশ, ক্রেডিট ইউনিয়নের টোকেনে মিলল পরিচয়

ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ি এলাকায় স্লুইসগেটের সামনে পানিতে ভাসতে থাকা ড্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দী মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। তিনি ত্রিশাল উপজেলার রমেন্দ্র চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে এবং ময়মনসিংহ নগরের আঠারবাড়ি বিল্ডিং এলাকায় যৌথ মালিকানায় একটি জুয়েলারি দোকান পরিচালনা করতেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিহতের স্ত্রী সুমিতা রানী সূত্রধর ও ছেলে জয় সূত্রধর মরদেহটি শনাক্ত করেন।

তবে নিরঞ্জনকে কারা এবং কী কারণে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে আটকও করা যায়নি।

পুলিশ জানায়, ড্রামের ভেতরে থাকা বস্তাবন্দী মরদেহের প্যান্টের পকেট থেকে ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের একটি টোকেন পাওয়া যায়। সেটির সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে টোকেনটি দেখে তারা নিরঞ্জন চন্দ্রের পরিচয় শনাক্তে সহায়তা করেন। পরে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নিহতের স্ত্রী সুমিতা রানী সূত্রধর ও ছেলে জয় সূত্রধর মরদেহটি শনাক্ত করেন।

নিরঞ্জন স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ময়মনসিংহ নগরের স্টেডিয়াম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর স্টেডিয়াম এলাকায় তাকে তার এক ভাতিজা দেখতে পেয়েছিলেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, টোকেন পাওয়ার পর ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির লোকজন টোকেনটি দেখে নিরঞ্জনের পরিচয় শনাক্ত করতে সহায়তা করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, এর আগেও নিরঞ্জন তিন-চার দিন বাড়িতে না থেকে পরে ফিরে এসেছিলেন। এ কারণে এবারও পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, তিনি কোথাও গেছেন এবং ফিরে আসবেন। তাই নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি।

এর আগে গত বুধবার সকালে বেগুনবাড়ি এলাকার স্লুইসগেটের সামনে পানিতে একটি ড্রাম ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রামটি উদ্ধার করে। পরে সেটির ভেতর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির বস্তাবন্দী মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহতের মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম। তার ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিরঞ্জনকে হত্যার পর মরদেহ ড্রামের মধ্যে রেখে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা