April 20, 2026, 12:06 am

হরিনাকুন্ডুতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে ছয় লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন!

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু পৌরসভার জোড়াপুকুরিয়া-মান্দারতলা মাঠের নলবিল ঘিরে গড়ে উঠেছে রুপালী বিপ্লব খ্যাত মৎস্য খামার। প্রায় পাঁচ শতাধিক বিঘার উপর গড়ে ওঠা খামারটি ঘিরে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে প্রতিদিন শতাধিক পরিবারের রুটি রুজির ব্যবস্থা হয়ে আসছে। হরিনাকুন্ডু পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মান্দারতলা গ্রামের আবির ফিসারিজের সত্ত¡াধিকারী রবিউল ইসলাম এখন থেকে বছর পাঁচেক পূর্বে অবহেলিত নলবিলে পুকুর খনন করে মিঠা পানির কৈ, মাগুর, শিং, টেংরা, পাবদার সাথে উন্নত বর্ধনশীল জাতের গ্রাসকার্প, সিলভার কার্প, নাইলোটিকা ও দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু রুই, কাতল, মৃগেলসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ করে সফলতার পাশাপাশি এলাকায় বিশেষ পরিচিতি অর্জন করে। মৎস্য চাষে এমন সফলতার মুখ দেখে এগিয়ে আসে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক প্রায় আরও বিশ কুড়িজন কৃষক। এমনই একজন সাধারণ কৃষিজীবী ব্যক্তি জোড়া পুকুরিয়ার দক্ষিণ পাড়ার মৃত এলেম মন্ডলের ছেলে আব্দুল মজিদ। চার বছর পূর্বে নিজের এবং লীজ নিয়ে প্রায় আড়াই একর জমির উপর চারটি পুকুর খনন করে মৎস্য চাষ শুরু করে। এবছর সে মৎস্য চাষ খাতে কৃষি ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে প্রায় চার লাখ টাকার সমপরিমান অর্থ বিনিয়োগ করে পুকুর চারটিতে। কিন্তু গতকাল রাতে কে বা কারা প্রায় দুই বিঘা সমপরিমান একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে ছয় লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সম্পূর্ণরুপে মেরে ফেলা হয়েছে বলে পার্শ্ববর্তী মৎস্য চাষীরা জানায়। ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষী আব্দুল মজিদ জানায়, সংশ্লিষ্ট পুকুরটিতে এবছর ৫০ হাজার টেংরা (গোলসা) সহ রুই, কাতল, গ্রাসকার্প, সিলভারকার্প, বøাড কার্প জাতীয় মাছ চাষ করা হয়। মাছের বাজার মন্দা থাকায় ইতিপূর্বে মাছ বিক্রি করা হয়নি। বর্তমানে মাছের বাজার বেশ খানিক চড়া হওয়ায় মাছ ধরে বিক্রির ঠিক পূর্ববর্তী মুহুর্তে এমন সর্বনাশ হয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগী চাষী সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা