ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হাফেজ আজিজুল হককে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে নিজের মালিকানাধীন ‘মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন’ থেকে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েবের ঘটনায় আলোচনায় আসেন তিনি।
সর্বশেষ বুধবার (৮ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ‘দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বহিষ্কারের’ সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হাফেজ আজিজুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারের সাম্প্রতিক নিয়োগের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সময় সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দকৃত তেল সব বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল আমার ও ফিলিং স্টেশনের নামে মিথ্যা অপপ্রচার করছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন ‘মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন’ থেকে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল ‘উধাও’ হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ওই ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ ডি ধারায় মামলা করেন।
বিএনপি নেতার ফিলিং স্টেশন থেকে ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েববিএনপি নেতার ফিলিং স্টেশন থেকে ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েব
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনটি ভৈরববাজার ডিপো থেকে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল বরাদ্দ পেয়েছে। এরমধ্যে ১, ২ ও ৪ এপ্রিল সাড়ে ১৩ হাজার করে তিন দফায় ৪০ হাজার ৫০০ লিটার এবং ৬ ও ৭ এপ্রিল ৯ হাজার লিটার করে আরও ১৮ হাজার লিটার পেট্রোলের সরবরাহ করা হয়। তবে অভিযানের সময় ম্যানেজার জলিল হোসেন রিফাত দাবি করেন, চলতি মাসে তারা মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল বিতরণ করেছেন। বাকি বিপুল পরিমাণ পেট্রোলের কোনো সদুত্তর বা হিসাব দিতে না পারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত নিশ্চিত হয় যে, প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে তেল মজুত বা কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত।
গৌরীপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ও বুধবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই অবৈধ মজুত প্রক্রিয়ায় আর কারা জড়িত তা শনাক্তে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি ।