November 8, 2026, 4:07 pm

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় নারায়ণগঞ্জে ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর, ২০২৬) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে পতাকা বিধি অনুযায়ী সঠিক মাপ ও রঙের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

দিবসটি উপলক্ষে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে জেলার বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ-মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়া জেলার সকল হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধনী কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন বনাম নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন দলের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় জেলা প্রশাসন দল জয়লাভ করে।

সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনিসুল ইসলাম সানি,নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীর। এছাড়া জেলা ও মহানগরের বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ অংশ নেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এমপি বলেন, “৭ নভেম্বর শুধু একটি তারিখ নয়, এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব দেশকে গভীর ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত করেছিল এবং গণতন্ত্রের পথকে সুগম করেছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জাতি সেদিন নতুন দিশা পেয়েছিল। এই চেতনাকে ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের শেখায় জাতীয় সংকটে ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্ব। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পুলিশ বাহিনী সবসময় জনগণের পাশে থাকবে। ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হয়েছিল। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির এই চেতনাকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

আলোচনা শেষে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশাত্মবোধক গানের আসর অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এছাড়া জেলার সকল সিনেমা হলে এবং ভ্যানযোগে ঘুরে ঘুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সম্পর্কিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দিবসটি উপলক্ষে সকল শিশু পার্ক শিশুদের জন্য বিনা টিকেটে উন্মুক্ত রাখা হয়।

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ:

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা