November 6, 2026, 6:02 am

মো. তিতাস শেখ

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী সশস্ত্র চক্রের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত সৈনিকের নাম মো. তিতাস শেখ (২৭)। এ ঘটনায় জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে একটি পিস্তল, দেশীয় তৈরি একটি বন্দুক ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালিকে জিম্মি করে রেখেছে বলে জানা যায়। পরে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ আভিযানিক দল গঠন করা হয়।

বিকেল ৫টার দিকে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মানবপাচারকারীরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে সেনাসদস্য সৈনিক মো. তিতাস শেখ বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযানে মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। পাশাপাশি জিম্মি থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিক রয়েছেন।

১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানান, অস্ত্র উদ্ধার ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারে জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্য আহত হন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএস সাজেদুর রহমান জানান, পাহাড়ে যৌথ অভিযান চলছিল। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে ওই পাহাড়ি আস্তানায় অর্ধশতাধিক মানুষকে আটকে রেখেছিল চক্রটি। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. আলম ও মো. সাদ্দাম ডাকাত জড়িত বলে জানা গেছে।

এর আগে বুধবার সকালে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট কার্যালয়ের পাশের একটি পাহাড় থেকে নির্যাতনের শিকার চার যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত অবস্থায় অন্য দুজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার মোকতার কামাল (৩৭) এবং উখিয়ার বালুখালী এলাকার মোহাম্মদ আকবর (৩২)। আহত দুজন হলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকার ইলিয়াস (৪০) ও অটোরিকশাচালক আলী আহমদ (৩০)।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, হ্নীলা এলাকায় মাদক কারবারে পাঁচ থেকে সাতটি দল সক্রিয় রয়েছে। এসব দলের সদস্যদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে। মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ ও লেনদেন নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা