November 6, 2026, 6:02 am

কুবি শিক্ষার্থীদের তল্লাশি, পুলিশ পরিচয়ে আটক তিনজনকে ক্যাম্পাসে নেওয়া নিয়ে উত্তেজনা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ পরিচয় দেওয়া তিন ব্যক্তির পরিচয়পত্র দেখতে না পেয়ে তাদের ছিনতাইকারী সন্দেহে আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টির সমাধান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা শহরের পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ এলাকার কাছাকাছি এ ঘটনা ঘটে।

আটক তিনজনের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল হানিফ ও পুলিশের সোর্স জাহিদ। অন্যদিকে তল্লাশির শিকার দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সিয়াম ও অর্প।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ধরতে যাচ্ছিলেন ওই দুই শিক্ষার্থী। এ সময় তিন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে তল্লাশি শুরু করেন। তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিলেও পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি। এতে সন্দেহ তৈরি হয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা তাদের পকেটে হাত দিয়ে তল্লাশি করছিলেন। পরিচয়পত্রের পরিবর্তে তারা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। পরে ভুয়া পুলিশ সন্দেহে তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী সিয়াম জানান, টিউশন শেষে ফেরার পথে পুলিশ পরিচয়ে তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে না পারার পাশাপাশি তার সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এএসআই শ্যামল সাহার দাবি, তারা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় পাওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা পরিচয় জানতে চাইলে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।

শ্যামল সাহা বলেন, পরিস্থিতি বুঝে তিনি সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।

পরে তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের তল্লাশির চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাক্‌বিতণ্ডা হয়। তবে কাউকে জোর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। একইভাবে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনের সময় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে এবং দুই পক্ষই তা মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষেরই ভুল ছিল। ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট থানা কিংবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি সমাধান করা যেত। বাসে করে তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে সমাজে যে মব কালচারের রেশ তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা