শহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকাল ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতাকর্মীরা ‘বাংলাদেশের আজাদি, উসমান হাদী’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন ভারতে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা। এছাড়া জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিলাব মঞ্চের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে নোবিপ্রবি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করেছি আমরা। আমাদের তিন দফা দাবিগুলো হলো— ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, জুলাইয়ের গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং শাপলা, পিলখানা ও জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও জানান, এই দাবিগুলো শুধু ইনকিলাব মঞ্চের নয়, বরং দেশের মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কোনো ধরনের আপস ছাড়াই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি, প্রশ্নফাঁস, বিচারহীনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তির পরিবর্তে বদলির মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও এখনো ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি তিন দফা দাবি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবিগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন,
একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে একজন নাগরিককে হত্যার পর বিচারের জন্য আজ আমাদের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হচ্ছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সকালবেলা ঘুমচোখে এসে দাবি করেন গত আট মাসে নাকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। অথচ এই সরকারের আমলেই তার নিজ আসনে দিনেদুপুরে বাস থামিয়ে ডাকাতি হয়, ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের লাশ ভেসে ওঠে, আর মিরাজ শেখের মতো মানুষ ২০৪ দিন ধরে নিখোঁজ থাকে। অথচ উনি এসে বলেন, দেশে নাকি একজন মানুষও নিখোঁজ হয় না! তিনি সংসদে বসে জাতিকে সংবিধান পড়ান, জনগণ উপযুক্ত সময়ে তাকে বসিয়ে রেখে সংবিধান মুখস্থ করাবে।
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি :