নারায়ণগঞ্জে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় এ অবরোধ শুরু হয়। এ সময় সড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রী, পথচারী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের আবির ফ্যাশন, পলমল, আজাদ রিফাত, মেট্রো নিট, শিকটেক্স, লিবার্টি গার্মেন্টসসহ বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা একযোগে রাস্তায় নেমে আসেন। পরে অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরাও তাদের সাথে যোগ দেন। বিক্ষোভকালে শ্রমিকরা “৩০ হাজার টাকা মজুরি চাই, বাঁচার মতো মজুরি চাই” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং শ্রমিকদের ওপর হামলা-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। তাদের সাথে বিএনপির স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরাতে সহযোগিতা করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করবে সরকার। আজ সরকারের উচ্চপর্যায়ে আপনাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে। সড়ক অবরোধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা কোনো সমাধান নয়। আমি আপনাদের কথা শুনেছি, আপনাদের আশ্বস্ত করছি। খুব দ্রুতই সরকার আপনাদের এই দাবির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। আপনারা কাজে ফিরে যান।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি। আপনারা কারো দাবার গুটির চাল হবেন না। আপনাদের দাবি থাকলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপস্থাপন করুন। আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবেন না। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে আপনাদের দাবির ব্যাপারে খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছি।
পরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসের পর শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে লিংক রোডে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: