November 1, 2026, 4:54 pm

শেরপুরে ব্রিজের নিচে অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ: ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই

শেরপুরের কুড়িকাহনিয়ায় অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিবিআই শেরপুরের চৌকস টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিনের মধ্যে এই সফল অভিযান চালায় পিবিআই।
জানা যায়,চলতি বছরের ২২ অক্টোবর সকালে শ্রীবরদী থানার কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রাম খুলে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পিবিআই শেরপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করে। ভিকটিমের নাম ঝিনুক আক্তার (২৬), পিতা-মোঃ শাকিল মিয়া। তার বাড়ি টংগীর এরশাদ নগর। এ ঘটনায় ঝিনুকের ফুফু বাদী হয়ে ভিকটিমের স্বামী সাইফুল ইসলামসহ আসামীদের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানার মামলা করেন। গত ২৯ অক্টোবর পিবিআই শেরপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মাহবুবুর রহমান মামলাটি তদন্ত করছেন। মামলা গ্রহনের দুই দিনের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ অক্টোবর পঞ্চগড় জেলার বোদা থানাধীন দিঘলগ্রাম থেকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মোঃ নুর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪)-কে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ অক্টোবর ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে আসামী মোঃ সজল (৪৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। ১ নভেম্বর মোঃ নুর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা (৪৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে নুর ইসলাম বাবু বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

পিবিআই এর সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ঝিনুক আক্তার টঙ্গী এলাকায় পার্লারে কাজ করত। ঘটনার তারিখ ও সময়ে আসামিরা তাকে ঢাকার উত্তরখান এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে অনৈতিক কাজের পারিশ্রমিকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা বটি দিয়ে তাকে আঘাত করে। পরবর্তীতে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় আসামী ফাতেমা ভিকটিমকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর আসামীরা মরদেহ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাতনামা গাড়িযোগে শেরপুরের শ্রীবরদী থানাধীন কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে যায়।
পিবিআই জানায় ঝিনুকের স্বামীর সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার :

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা