October 28, 2026, 2:44 pm

ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশে দৌড়ঝাঁপ ও তড়িঘড়ি জমি ফেরত দিয়ে ‘সাধু’ সাজবার ব্যর্থ চেষ্টা দুর্নীতিবাজ হাফিজুরের

‎দ্বৈত চাকরির মায়াজাল, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে
‎৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিকট থেকে ২ কোটি টাকার বাণিজ্য, পকেট কমিটি ও শিক্ষার্থীদের ফান্ডের লাখ লাখ টাকা লোপাট, যশোরের মনিরামপুরের মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের তথাকথিত প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের দুর্নীতি ও জালিয়াতির একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য এখন উন্মোচিত হচ্ছে। বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন এই বহুরূপী দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ।
‎
‎
‎আইনের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজের অপরাধ ঢাকতে এবার তিনি নিয়েছেন এক নাটকীয় কৌশল, আত্মসাৎ করা কলেজের জমি তড়িঘড়ি করে পুনরায় প্রতিষ্ঠানের নামে লিখে দিয়ে ‘সাধু’ সাজার এক ব্যর্থ অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি!
‎
‎প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্ন থেকেই জালিয়াতি যার প্রধান হাতিয়ার, সেই হাফিজুর রহমান স্থানীয় মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে নজিরবিহীন প্রতারণা চালিয়ে গেছেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে সহজ সরল এলাকার দানশীল ব্যক্তিত্ব নবু গাজী, মো: হারান গাজী এবং মো: আবু বক্কার গাজী (এক্কা) কলেজের সার্বিক কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে ১২ শতক জমি দান করেছিলেন। কিন্তু জালিয়াতির মহা-ওস্তাদ অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান ধূর্ততার সাথে দাতা ও পরিচালনা পর্ষদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই জমি প্রতিষ্ঠানের নামে দলিল না করে নিজের ব্যক্তিগত নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।
‎
‎খবরের চাপে পিছু হটে তড়িঘড়ি ‘দানপত্র’ দলিল
‎সাম্প্রতিক সময়ে দৈনিক গ্রামের কাগজ , দৈনিক কল্যাণ , দৈনিক স্পন্দন, দৈনিক চেতনায় বাংলাদেশ, জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার সহ শীর্ষস্থানীয় ও গণমাধ্যমে তার ভূমি আত্মসাত’সহ দূর্নীতির সাতকাহন নিয়ে একের পর এক ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে। এতে চারদিকে তোলপাড় শুরু হলে এবং প্রশাসনিক জাঁতাকল ও আইনি ব্যবস্থার খাঁড়ার ঘা ঘনিয়ে আসায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন হাফিজুর।
‎
‎নিজেকে বাঁচাতে ও অপরাধের দায় এড়াতে শেষ পর্যন্ত তিনি বাধ্য হন আত্মসাৎকৃত সেই ১২ শতক জমি কলেজের নামে ফেরত দিতে। যার দলিল নম্বর: ৩৩৮, জমির পরিমাণ: ১২ শতক, খতিয়ান নম্বর: ১১৪, খতিয়ান পরিচিতি নম্বর: ৪০৪১৬১-২১০৬২৬-১০০০২৭। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক বজলু ভেন্ডার আমাদের জানান, জ্বী হ্যাঁ, মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের নামে একটি জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান নিজ উদ্যোগে জমিটি কলেজের নামে হস্তান্তর করেছেন, যার অফিশিয়াল কাজ গত ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন করা হয়েছে।
‎
‎জমি ফেরত দিয়ে নিজেকে বাঁচাতে চাইলেও
‎ হাফিজুরের বিগত দুই দশকের জালিয়াতির পাহাড় চাপা দেওয়া সম্ভব নয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ ঠেকাতে তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা দিচ্ছেন। গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে নানামুখী কৌশল ও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন এই দুর্নীতিবাজ শিক্ষক।
‎
‎তবে নেপথ্যের চিত্র আরও ভয়ংকর। ২০০১ সাল থেকে চৌগাছার হাকিমপুর এবিসিডি কলেজের এমপিওভুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে নিয়মিত বেতন-ভাতা ভোগ করা হাফিজুর রহমান একই সাথে ২০০৪ সাল থেকে মনিরামপুরে মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সেজে বসে আছেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশক ধরে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড ও পকেট কমিটি বানিয়ে ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকা। ২০২০ সালের করোনাকালে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষার প্রায় ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত অবৈধ অর্থে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় ৬ শতক জমির ওপর গড়ে তুলেছেন তিনতলা এক আলিশান বাড়ি।
‎
‎একটি অপরাধ ঢাকতে তড়িঘড়ি করে জমি ফেরত দিলেই কি দুই দশকের আর্থিক দুর্নীতি, জালিয়াতি ও প্রতারণার পাপ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়? শত শত বেগার খাটা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা খেলা করেছেন, তাদের ছাড় দেওয়া যায় না।
‎সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ, জালিয়াতির হোতা অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তপূর্বক কঠোর প্রশাসনিক এবং ফৌজদারি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
‎
‎রাজনৈতিক ক্ষমতা ও দ্বৈত চাকরির আড়ালে আর কী কী লুকানো অপরাধ লুকিয়ে রেখেছেন অধ্যক্ষ হাফিজুর? জানতে চোখ রাখুন ‘দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ হাফিজুরের দূর্নীতি’র সাতকাহন’-এর পরবর্তী বিস্ফোরক পর্বে!

বিশেষ প্রতিনিধি মনিরামপুর (যশোর):
‎

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা