October 27, 2026, 5:04 pm

ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘট চলছে। এতে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া এবং মৃত ব্যক্তির মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন।

তিনি জানান, হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতাল এলাকা থেকে তাদের অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে নতুন ভবনের নিচে পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিষ্কার করে সেখানে সিসি ক্যামেরা, লাইট ও গেট স্থাপন করা হলেও পরবর্তী সময়ে সেখান থেকেও গাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়।

শাহাদাত হোসেন বলেন, রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স রাখলে পুলিশের সার্জেন্ট মামলা দেন। পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে তারা কয়েক লাখ টাকা খরচ করেছেন। নির্ধারিত স্থানে গাড়ি রাখার বিনিময়ে সরকারকে রাজস্ব দিতেও তারা প্রস্তুত। তবে পার্কিংয়ের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। বর্তমানে ঢামেক থেকে তাদের অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রোগী ও স্বজনদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মো. শাহীন জানান, তার ৭০ বছর বয়সী দাদি হালিমা বেগম মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে মারা যান। এরপর মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজেও পাননি তিনি।

একই ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রাবাড়ীর মোহাম্মদ মনির হোসেন। তার ২২ বছর বয়সী বড় ভাগিনা মো. রাসেল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মরদেহ নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে এক চিকিৎসক তাদের ভ্যানে করে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, খুলনা থেকে গুরুতর আহত শাশুড়িকে নিয়ে ঢামেকে আসা আব্দুল আহাদ জানান, পরে তার শাশুড়িকে কিডনি হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু দুপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজেও পাননি তিনি। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্বজনরা।

হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানান, অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেকে অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপভ্যানে রোগী এবং মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন। বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স এলেও রোগী ও স্বজনদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা মিলছে না। এ পরিস্থিতি সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা