October 21, 2026, 10:00 pm

দুই ছেলেকে হত্যার অভিযোগে মা গ্রেপ্তার

ভারতের রাজস্থানে প্রেমিকের আপত্তির জেরে প্রথম স্বামীর ঘরে জন্ম নেওয়া ১৩ বছর বয়সী যমজ দুই ছেলেকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্ত শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে পুলিশ জানায়, রাজস্থানের ডিগ জেলার একটি মাঠ থেকে দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে তারা। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশু দুটিকে বাড়ির ভেতরে হত্যা করা হয়েছিল। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে উত্তর প্রদেশের হাতরাস এলাকার নিরঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান রয়েছে। কয়েক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি।

একপর্যায়ে প্রতিবেশী এক পুরুষের সঙ্গে ওই নারীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে আগের সংসানের সন্তানদের মেনে নিতে রাজি ছিলেন না ওই ব্যক্তি। এমনকি ওই নারীকে বিয়ে করতেও অস্বীকৃতি জানান তিনি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এ প্রত্যাখ্যান থেকেই যমজ দুই ছেলেকে হত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

দশেরার দিন সকালে গ্রামের একটি মাঠে দুই কিশোরের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়ের মধ্যে আলামত সংরক্ষণ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়।

তদন্তে সহায়তার জন্য ডগ স্কোয়াড, ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) এবং মোবাইল অফিসার অব ইনভেস্টিগেশন (এমওবি) দলকে কাজে লাগানো হয়। আশপাশের মাঠগুলোতে তল্লাশি চালাতে একাধিক দলও গঠন করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার শরণ গোপীনাথ জানান, তদন্তের প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের ভিত্তিতে শিশু দুটির মাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য স্থান ও পদ্ধতি সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র, পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা করা হবে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জানতে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুই কিশোরের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং এতে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা