এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ:
আজ শুভ বিজয়া দশমী। দেবীপক্ষের সমাপ্তি আর মাতৃবিদায়ের বেদনায় ভারাক্রান্ত আজ সনাতন হৃদয়। পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, সিঁদুর খেলা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।
এই বিদায়কে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে নারায়ণগঞ্জের প্রধান বিসর্জনস্থল ৫ নম্বর ঘাটসহ জেলার সকল বিসর্জন স্থানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও ৫ নম্বর ঘাট বিসর্জনস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে শহরের নিতাইগঞ্জ লক্ষী মন্দির, বলদেব মন্দির, চাষাড়া গোপাল জিউর বিগ্রহ মন্দির।সিদ্ধিগোপাল আখড়া মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী সুধীজন ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে আন্তরিক মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাইমা ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলীনুর খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইব্রাহিম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
মতবিনিময় কালে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। আবহমান কাল ধরে এদেশে সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উৎসব পালন করে আসছে। শারদীয় দুর্গাপূজা তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আর নারায়ণগঞ্জ ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বর্তমান সরকার সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার সারাদেশে পূজা নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগের প্রতিটি মণ্ডপে প্রশাসন, পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা নির্ভয়ে ও আনন্দঘন পরিবেশে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব উদযাপন করতে পারেন।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে বিকালে ৫ নম্বর ঘাট বিসর্জনস্থল পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান,নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু সহ জেলার সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
বিসর্জনস্থল পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার বলেন,আজ বিজয়া দশমী, এই বিদায়লগ্নে আমরা ৫ নম্বর ঘাটসহ নারায়ণগঞ্জের বিসর্জন ঘাটের সার্বিক প্রস্তুতি দেখলাম। জেলা প্রশাসন অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। আমি বিশ্বাস করি, নারায়ণগঞ্জবাসী ভক্তিভরে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানাবেন এবং জেলা প্রশাসনসহ আপনাদের সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজা শেষ হবে।
এ সময় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ঢাকা রেঞ্জের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপ ও বিসর্জন ঘাটে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিসর্জনের সময় নৌ-পুলিশ, ডিবি ও ট্রাফিক পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবে। গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিমও কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন,ভক্তরা যাতে ভক্তিভরে ও নিরাপদে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে বিদায় জানাতে পারেন, সেজন্য ৫ নম্বর ঘাটসহ জেলার প্রতিটি বিসর্জন স্থানের সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘাটে পর্যাপ্ত আলো, ক্রেন, নৌকা, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন,বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে। ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আশা করি, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হবে।