October 14, 2026, 5:23 pm

রূপগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগে ইউএনওর তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত

মোঃ আবু কাওছার মিঠু রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গতকাল ১৪ অক্টোবর বুধবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর মা সাহেরা বেগমের লিখিত অভিযোগে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুন নাহার, রূপগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হুমায়ুন কবির, রূপগঞ্জ থানার এসআই নাহিদ মাসুম, রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কানিজ ফাতেমা, মাহমুদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাহমুদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী ও মাহমুদাবাদ গ্রামের আবুল হোসেন ফরাজীর ছেলে সবুজ ফরাজী(৪২) পঞ্চমবারের মতো গত ১১ অক্টোবর একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী টিফিনের সময় বেসিন থেকে খাবার পানি নিয়ে আসতে গেলে তাকে একা পেয়ে সে জোরপূর্বক যৌন নিপিড়ন করে। ঘটনাটি অন্য শিক্ষার্থীরা হঠাৎ দেখে ফেলে। ওই দিনের মধ্যেই ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা সাহেরা বেগম গত ১২ অক্টোবর রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

২০২২ ও ২০২৪ সালে সবুজ ফরাজী একই কায়দায় আরো চার শিক্ষার্থীকে যৌন নিপিড়ন, শ্লীলতাহানী ও ধর্ষণের চেষ্টা করে বলও অভিযোগ ওঠেছে। তখন ওই অভিযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবুজ ফরাজীর পক্ষ নিয়ে অভিযোগকারীদের শাসিয়ে দেয়। তৎকালীন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করেন। কিন্তু সবুজ ফরাজীর সংসারে একজন প্রতিবন্দি ছেলের ভরনপোষণের দিক বিবেচনা করে তখনকার মতো তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে সবুজ ফরাজী চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই অবাধে একের পর এক যৌন নিপিড়ন, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এসবের কোন বিচার হচ্ছে না।

এদিকে অভিযুক্ত সবুজ ফরাজীর পক্ষে যৌন নিপিড়নের শিকার শিক্ষার্থীর মা সাহেরা বেগমকে ক্ষতিপূরণ বাবদ কিছু পরিমাণ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ টাকা সাহেরা বেগম নিতে অস্বীকার করায় অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় সাহেরা বেগম ও তার পরিবার সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মাহমুদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বলেন, শিক্ষার্থীকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তদন্ত কাজ যেন ব্যাহত কিংবা প্রভাবিত না হয় সেজন্য আমার কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে
রূপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও তদন্ত কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, এই ঘটনার অভিযোগে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ সত্য প্রমানিত হয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক বলেন, এব্যাপারে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনক্রমেই ব্যত্যয় ঘটবে না।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা