-
- জাতীয়
- চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্ট
- আপডেটের সময় : অক্টোবর, ১৪, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
- 19 বার দেখা হয়েছে
চাকরিতে প্রবেশের সময় কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে অধিকার ও পদোন্নতির যোগ্যতা থাকে, পরবর্তীতে প্রবিধানমালা বা বিধি সংশোধন করে তা কেড়ে নেওয়া যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরির প্রবিধানমালা সংশোধন করার পূর্ণ ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের থাকলেও, তা কোনোভাবেই ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর দেখিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগের অর্জিত আইনি সুবিধা-অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান তালুকদার ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র মামলায় এমন রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে কর্মরত সাত জনের কর্মচারীর পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিরোধ সংক্রান্ত রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৯ আগস্ট এই রায় দিয়েছেন। ১৭ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিম।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস.আর.এম. লুৎফর রহমান আখন্দ। অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কবির ইকবাল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজ বিন ইউসুফ ও আক্তার হোসেন মো. আবদুল ওহাব।
প্রকাশিত রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তালুকদারসহ মোট সাত জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়। তৎকালীন ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০১১’ অনুযায়ী, ফিডার পদে পাঁচ বছর চাকরি সম্পন্ন করার পর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) থেকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে শতভাগ পদোন্নতির বিধান ছিল। রিট আবেদনকারী সাত জন প্রকৌশলীই ২০২১ সালের আগেই প্রবিধানমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অর্জন করেন।
তবে ২০২১ সালের ৯ মার্চ সরকার ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রবিধানমালা, ২০২১’ গেজেটে আকারে প্রকাশ করে। নতুন এই প্রবিধানমালার ৩২ নম্বর ক্রমিকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদটি শতভাগ পদোন্নতির পরিবর্তে ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৬৭ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান করা হয়। বিপরীতে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতির শতভাগ কোটা অপরিবর্তিত রাখা হয়।
নতুন এই প্রবিধানমালার ফলে পদোন্নতির অর্জিত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রিট আবেদনকারীরা ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন।
শুনানিকালে রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী এস.আর.এম. লুৎফর রহমান আখন্দ আদালতে তুলে ধরেন যে, ২০২১ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার আগেই তার মক্কেলগণ পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণ করে অধিকার অর্জন করেছিলেন। তাই পরবর্তী সংশোধনের মাধ্যমে তাদের প্রতিকূলে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা আইনত বেআইনি ও বৈষম্যমূলক।
অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পক্ষের আইনজীবী কবির ইকবাল হোসেন যুক্তি দেন, ২০১১ সালের প্রবিধানমালা রহিত করে ২০২১ সালের প্রবিধানমালা প্রবর্তন করা হয়েছে। রহিত প্রবিধানের অধীনে কেউ পদোন্নতি দাবি করতে পারেন না এবং ভালো সেবা নিশ্চিত করতে সিভিল শাখায় বিএসসি প্রকৌশলীদের সরাসরি নিয়োগের বিধান করা হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনা করে আমরা এই মর্মে সিদ্ধান্ত প্রদান করছি যে, ইতোপূর্বে প্রবিধান সংশোধনীর আগেই যারা পদোন্নতির জন্য যোগ্য হয়েছিলেন, সেই রিট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নব প্রণীত পদোন্নতির প্রবিধান, ২০২১ ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। রিট আবেদনকারীরা পূর্ববর্তী প্রবিধান, ২০১১-এর অধীনে অর্জিত ও প্রতিষ্ঠিত অধিকারের অধিকারী। পরবর্তীকালে প্রবিধানে কোনো পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।
সুতরাং সংশোধিত প্রবিধান, ২০২১ কার্যকর হওয়ার আগে যেসব আবেদনকারী পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত চাকরিকাল, যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করেছিলেন, তাদের পদোন্নতির বিষয়টি পুরোনো প্রবিধান, ২০১১-এর বিধান অনুযায়ী কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে। পরবর্তীতে প্রবর্তিত কোনও নতুন শর্তের কারণে তাদের ইতোমধ্যে অর্জিত যোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।
উপর্যুক্ত কারণগুলোর জন্য আমরা রুলটিতে সারবত্তা খুঁজে পাচ্ছি। তাই রুলটি নির্দেশনাসহ নিষ্পত্তি করে বিবাদীগণকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, ২০২১ সালের প্রবিধানমালা চালুর আগেই পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনকারী রিট আবেদনকারীদের ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০১১’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে এবং পদের শূন্যতা, যোগ্যতা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত অন্যান্য আইনানুগ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগামী এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধানের অধীনে এই পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
এই রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার আদেশটি নিষ্পত্তি করা হলো। ফলস্বরূপ, উপরোক্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে রুল নিষ্পত্তি করা হলো। রায় এবং আদেশ অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হোক।
এই বিভাগের আরও খবর
- রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা, হাইকোর্টে রিট
- সৌদিগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী
- বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে নতুন জঙ্গিবাদী দলের। নতুন জঙ্গিবাদী দলটির নাম ‘ইতেহাদুল উম্মাহ’। তাদের সঙ্গে বিদেশি জঙ্গি দলের যোগাযোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। সম্প্রতি তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে আটককৃতদের জেরা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ‘ইতেহাদুল উম্মাহ’ সম্পর্কে তথ্য লাভের বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, “তেজগাঁও হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদে ‘ইতেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উগ্রবাদী তৎপরতায় সংগঠিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।” তবে বাংলাদেশ সরকার সব ধরনের জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ কঠোর হাতে বন্ধ করার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘এ ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স রয়েছে।’ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও কলেজের একটি মসজিদ থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদে গোপন বৈঠক করার সময় তাদের আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মসজিদে পুলিশের এই সফল অভিযানের কথা সাংবাদিকদের জানান। আরো পড়ুন গাজীপুর সিটির উন্নয়নে ২৫৮৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন গাজীপুর সিটির উন্নয়নে ২৫৮৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন তেজগাঁওয়ের এই জঙ্গিবাদীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় ফের সামনে এলো বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ। জাতিসংঘের তরফে অবশ্য আগেই আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন জঙ্গিবাদী নেটওয়ার্কের বিষয়ে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোকে সতর্ক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেজগাঁওয়ের মসজিদটিতে তাদের কথিত বৈঠক চলাকালে আটক করা হয়। অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট (এটিইউ) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের সিটিটিসির হেফাজতে নেন। তাদের জেরা করে জঙ্গিবাদী কার্যকলাপের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসছে। মৌলবাদীদের ছত্রচ্ছায়ায় বাংলাদেশে বাড়ছে জঙ্গিবাদীদের তৎপরতা। সেই সঙ্গে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে উত্থাত করে দেশকে অস্থির করে তোলার। পর্দার আড়াল থেকে বিদেশি শক্তি ও ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগাচ্ছে। তেজগাঁওয়ে জঙ্গি গ্রেপ্তারের পরদিন, ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার মিরপুর ও মধ্য বাড্ডায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি পিকআপেও অগ্নি সংযোগ করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তার পরের দিন, রবিবারও রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। নির্বাচনে পরাজিত শক্তিই বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছে বলে গোয়েন্দারা মনে করছেন। তবে পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। আরো পড়ুন ‘গুরুদুয়ারা নানক শাহী’ পরিদর্শনে কানাডার প্রতিমন্ত্রী ‘গুরুদুয়ারা নানক শাহী’ পরিদর্শনে কানাডার প্রতিমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ বেড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সনীতি গ্রহণ করা হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছিলেন, ‘দেশে জঙ্গি রয়েছে এবং জঙ্গি তৎপরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়ে সরকার কাজ করবে।’ সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। কিন্তু সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিরোধী পক্ষ জঙ্গিবাদীদের মদদ জুগিয়ে চলেছে। তাদের দেশকে অস্থির করে তোলার খেলায় মানুষের নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত বিঘ্নিত হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় থেকেই বহু জঙ্গি খোলা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্ত জেল পালানো তিনজন কট্টর জঙ্গি নেতাকে এখনো ধরা যায়নি। পলাতক বন্দিদের মধ্যে ৯ জনের বিরুদ্ধে ছিল একাধিক জঙ্গিবাদের মামলা। অনেকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকারও অভিযোগ ছিল। ইতিমধ্যে তাদের ৬ জনকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিনজনের কোনো খোঁজ নেই বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজিপ্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন। আরো পড়ুন সৌদিতে ফ্লাইট চলাচলে বিধি-নিষেধ, ঢাকায় ৯৬৭৪ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত সৌদিতে ফ্লাইট চলাচলে বিধি-নিষেধ, ঢাকায় ৯৬৭৪ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত কারা কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও অন্তত ২৭ জন জঙ্গি শুধু নরসিংদী কারাগার ভেঙে পালিয়েছিল বলে জানা যায়। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়েছে খুব কম করে ৬৯০ জন বন্দি। তাদের অনেকেরই এখনো খোঁজ মেলেনি। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী জেল-ছুট জঙ্গিরা মৌলবাদীদের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশে নতুন নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরিই তাদের লক্ষ্য। গোয়েন্দারা তেজগাঁও থেকে ধৃতদের জেরা করে জানতে পেরেছেন, ‘ইতেহাদুল উম্মাহ’ নামে নতুন সংগঠন গড়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে জঙ্গিরা। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর আবারও উগ্রবাদ নিয়ে তাই উদ্বেগ আরো বাড়ছে। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এখনই পরিস্থিতিকে উগ্রবাদের উত্থান হিসেবে দেখার মতো তথ্য নেই। সম্ভাব্য তৎপরতার ওপর নজরদারি চলছে। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে সাধারণ মানুষ অবশ্য এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষপাতী। তাদের মতে, দেশকে উগ্রবাদ মুক্ত করতে হলে অঙ্কুরেই শেষ করতে হবে জঙ্গিবাদকে। বাংলাদেশে বহুদিন ধরেই চলছে জঙ্গিবাদীদের রমরমা। বিদেশের অর্থ ও সহায়তায় ধর্মের নামে তারা বিস্তার করে চলেছে নিজেদের সংগঠন। মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটনের মতে, বাংলাদেশে উগ্রবাদ নতুন কোনো বিষয় নয়; দীর্ঘদিন ধরেই এর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘গত প্রায় দুই বছরে এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড কতটা কার্যকরভাবে নজরদারিতে ছিল, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এখন তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, এমন কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি।’ আরো পড়ুন এবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিচার হবে ভার্চুয়ালি! এবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিচার হবে ভার্চুয়ালি! বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মতো সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভেতরেও জঙ্গিবাদীদের জাল বিস্তৃত। চলতি বছরেই চট্টগ্রামের একটি ঘাঁটি থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এক ওয়ারেন্ট অফিসারের সন্ধান মিলেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) এক ডেরায়। এ ঘটনার পরই বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরে উগ্রপন্থি নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। পাকিস্তান সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত টিটিপির পক্ষে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীরও সদস্য কাজ করছিলেন। প্রতিরক্ষা বাহিনীতেও জঙ্গি অনুপ্রবেশ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য খুবই বিপজ্জনক। তেমনই বিপজ্জনক ছোট ছোট শিশুদের মনে মাদরাসার মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বীজবপনও। এটা প্রতিহত করতেই হবে। এর জন্য চাই আরো কঠোর নজরদারি।
- নাটোরে চুরি হওয়া ল্যাপটপ ফিরে পেলেন জার্মান পর্যটক ক্রিল
- আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নেই: জাহেদ উর রহমান
- মেয়েদের বিয়ের বয়স কমাতে রাজনৈতিক নেতাদের তদবির, উদ্বেগে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
- দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দেশজুড়ে মোতায়েন থাকবে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য
- নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের বিক্ষোভের মুখে ড. ইউনূস
- সৌদিগামী ৫১ ফ্লাইটে বিঘ্ন, ভোগান্তিতে ৫ হাজারের বেশি যাত্রী
- চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকাশ হতে পারে এইচএসসি পরীক্ষার ফল