October 12, 2026, 12:56 am

ওসমান হাদী কাজী নজরুলের একজন যোগ্য শিষ্য হিসেবে গুরু-শিষ্যের কবর পাশাপাশি থাকার মধ্যে কোনো সংকট নেই: রাশেদ খাঁন

‘নিজস্ প্রতিনিধি:

ঢাকা-৮ আসনে শহীদ ওসমান হাদীর বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিলো। আর জামায়াতের আমিরের পিএস, বুয়েট শিবিরের সভাপতি জুবায়ের ওসমান হাদীকে বলেছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন না করতে, এখানে সাদিক কায়েম জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবে। সেসময় শহীদ ওসমান হাদী উত্তর দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পাবো, তবুও ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করবো…! নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন, এবিষয়ে শহীদ ওসমান হাদীর ভাই ওমর হাদী ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছিলেন।

আমার প্রশ্ন হলো, জামায়াতের আমিরের পিএস জুবায়ের কি দেশে আছে? শহীদ ওসমান হাদীর ভাই তো তাকেও সন্দেহ করে পোস্ট করেছিলেন। এছাড়া শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি যাদের এতো দরদ, তারা কেনো তার আহ্বানে সাড়া দিলো না? আমার যদি ভুল না হয়, সে তো প্রকাশ্যে আহ্বান করেছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে কোনো দল যাতে তার বিপরীতে প্রার্থী না দেয়! উল্টো তার বিপরীতে একজন রিকসাচালকে প্রার্থী করে এনসিপি ওসমান হাদীকে অপমান করে। তাও যদি তাকে প্রার্থী হিসেবে রাখতো, সেটা আলাদা কথা ছিলো। কিন্তু রিকসাচালক সুজনকে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী না করে ওসমান হাদী হত্যার পর তাকে (রিকসাচালক সুজনকে) সরিয়ে দেওয়া প্রমাণ করে যে, শহীদ ওসমান হাদীকে ছোট করতেই এমন নোংরামি করেছিলো এনসিপি।

অন্যদিকে জামায়াত তো ওসমান হাদীকে একপ্রকার থ্রেট করে বসে নির্বাচন না করার জন্য বা অন্য আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য! কিন্তু হত্যার পরে শহীদ ওসমান হাদী হয়ে গেছেন জামায়াত-এনসিপির সবচেয়ে বড় আদর্শিক নেতা! কিন্তু মৃত্যুর আগে শহীদ ওসমান হাদী ছিলেন এই দুই দলের কাছে বিষ! কারণ তিনি এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট, জুলাইকে কুক্ষিগত করার মত ৩ টা অপরাধ চিহ্নিত করেছিলেন এবং জামায়াতকে গুপ্ত বলেছিলেন, যারা রিমোট চাপলে যেকোনো সময় নাই হয়ে যাবে।

শোনেন, শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি আমাদের সকলের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু এনসিপির গাঁজাখোর নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী যখন বলে, জিয়াউর রহমানের চেয়ে হাদীর লড়াই বেশি শক্তিশালী, তখন তো আর বলতে বাকি থাকে না, জামায়াত-এনসিপি ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে! বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে শহীদ ওসমান হাদীকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়, সেই নোংরা প্লান থেকেই গাঁজাখোর নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এমন মন্তব্য করেছে।

আমি আশা করি, বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেই ফাঁদে পা দিবে না। শহীদ ওসমান হাদী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদ বিরোধী রাজনীতিকে আদর্শ মেনেই সংগ্রাম করেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামকে জীবদ্দশায় শহীদ ওসমান হাদী যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, সেটা অতুলনীয়। সুতরাং শহীদ ওসমান হাদী জাতীয়তাবাদী আদর্শের অংশ ও লালনকারী। তাকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো প্লান সাকসেস হবে না, ইনশাআল্লাহ।

তবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেররা যেসময় বলে, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ চিনেছে যে, নজরুলের মাজারটা কোন জায়গায়! তখন কিন্তু শুধুমাত্র জাবেরদের এই বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে শহীদ ওসমান হাদীর কবর দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে অনেকের মধ্যে একধরনের প্রশ্নের উদ্রেক আসতে পারে। তবে একজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া মানুষের কবর দেওয়া নিয়ে কোনো বিতর্ক করা ঠিক না। কারণ শহীদ ওসমান হাদীর কবরের সাথে তার কোনো হাত নেই বা হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি এমন কোনো অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করে যান নি বরং শহীদ ওসমান হাদী জীবদ্দশায় যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি থেকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যু হলে কবরটা যেন বাবার কবরের পাশে দেওয়া হয়।

শোনেন, আমাদের সকলেরই উচিত, কাজী নজরুল ইসলামের সাথে শহীদ ওসমান হাদীকে ন্যূনতম তুলনা করে বক্তব্য না দেওয়া। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিপ্লবী চেতনাকে শহীদ ওসমান হাদী দারুণভাবে ধারণ করতেন। শহীদ ওসমান হাদী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একজন যোগ্য শিষ্য বলে মনে করি। সুতরাং গুরু-শিষ্যের কবর পাশাপাশি থাকার মধ্যে কোনো সংকট আছে বলে মনে করি না। বরং আমার মাঝেমধ্যে মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতাসহ বেশকিছু কবিতা যেনো শুধুমাত্র শহীদ ওসমান হাদীর আবৃত্তির জন্যই সৃষ্টি হয়েছিলো।

পরিশেষে ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াত- এনসিপি তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য শহীদ ওসমান হাদীকে যতো কম টানাহেঁচড়া করবে, শহীদ ওসমান হাদী ততো বেশি সার্বজনীন ও প্রাসঙ্গিক থাকবে। আর প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সাথে শহীদ ওসমান হাদীর খুবই গভীর সম্পর্ক ছিলো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নুরুল হক নুর আক্রান্ত হওয়ার পরে শহীদ ওসমান হাদী বিচারের দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। এবং শহীদ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরেও নুরুল হক নুরও ওসমান হাদীর পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন।

তারা দু’জনেই আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা। নুরুল হুক নুরের পুরো বক্তব্য শুনলে মনে হবে না যে, সে শহীদ ওসমান হাদীকে কোনোভাবে ছোটো করেছে। বরং তার রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষ উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে ও বিভ্রান্তি ছড়াতে বক্তব্য কাটছাঁট করে খণ্ডিত বক্তব্য প্রচার করেছে। আশা করি, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বিষয়টি পরিষ্কার করবেন।

আজকে সকালে শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সাথে টেলিফোনে কথা হচ্ছিলো, তিনিও বললেন, ‘যেসময় কেউ কথা বলতো না, সে সময় নুর ভাই কথা বলতেন, একজন মৃত মানুষকে নিয়ে বিরোধীপক্ষ বিতর্ক করার সুযোগ পায়, এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত না।’ আমিও শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাইয়ের সাথে এক মত। আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদীকে আমরা আজীবন হৃদয়ে ধারণ করবো, ইনশাআল্লাহ। তাকে যারা বিতর্কিত করতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে, তাদের বিষয়েও আমাদের সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা