জামালপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী সিফাত পরিবহনের একটি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের মুখে বাসের ২৫ যাত্রীকে জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোররাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার ভূঁইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে লুট হওয়া নগদ টাকার পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বাসের যাত্রীদের অভিযোগ, পাঁচজনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাসে উঠে চালককে জিম্মি করে। পরে নারী-পুরুষসহ ২৫ যাত্রীর কাছ থেকে একে একে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে তারা বাস থেকে নেমে যায়।
যাত্রীরা জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জামালপুর থেকে ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-২৪৪৪ নম্বরের সিফাত পরিবহনের বাসটি ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে সাইনবোর্ড এলাকায় কয়েকজন যাত্রী নেমে যাওয়ার পর রাত ৩টার দিকে বাসটি ভূঁইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছায়।
সেখানে যাত্রী নামানোর সময় কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে জোর করে বাসে ওঠে। তারা চালকের বুকে বড় ছুরি ধরে যাত্রীদের ভয় দেখায়। এরপর যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে দ্রুত বাস থেকে নেমে যায়।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর বাসচালক ও যাত্রীরা ঘটনাস্থলের অদূরে থাকা ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি টহল দলের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানান।
সিফাত পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের কর্মী বিপ্লব জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডাকাতরা বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর চালক যাত্রীদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট এলাকার কাউন্টারের সামনে যান। সেখানে যাত্রীরা টাকা ও মোবাইল ফোন লুটের বিষয়টি জানান।
ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিলন ফকির বলেন, বাসে ডাকাতির ঘটনাস্থলের আশপাশেই পুলিশের টহল দল ছিল। তবে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার পর বাসচালক ও যাত্রীরা পুলিশকে বিষয়টি জানান। তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, ধারালো অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় বাসের চালক বা যাত্রীরা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার সময় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তার দাবি, দুজন দুর্বৃত্ত বাসের ভেতরে উঠেছিল এবং একজন বাইরে ছিল। যাত্রীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।