মাত্র ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে পা রেখেছিলেন মার্কিন মডেল প্রেসলি গার্বার। কিংবদন্তি সুপারমডেল সিন্ডি ক্রফোর্ডের ছেলে হিসেবে শৈশব থেকেই আলোচনায় থাকা প্রেসলি অল্প সময়েই বিশ্বের শীর্ষ ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে কাজ করে পরিচিতি পান। তবে গ্ল্যামারের জগতের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদ ও মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। সেই লড়াইয়ের মধ্যেই মাত্র ২৭ বছর বয়সে মারা গেলেন এই মডেল।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের নথি অনুযায়ী, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) একটি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রেসলি গার্বারের মৃত্যু হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি অ্যালি জেনকিন্স এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। প্রেসলির মা সিন্ডি ক্রফোর্ড ও বাবা ব্যবসায়ী রান্ডে গার্বার পরিবারের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মায়ের পথ অনুসরণ করে ফ্যাশন দুনিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন প্রেসলি। ইতালীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড মস্কিনোর হয়ে ক্যাটওয়াকে অভিষেকের পর বারবেরি, ডলচে অ্যান্ড গাব্বানা ও বোতেগা ভেনেতার মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হয়ে কাজ করেন তিনি। তার বাবা রান্ডে গার্বারও ব্যবসায়িক অঙ্গনে পরিচিত নাম। হলিউড অভিনেতা জর্জ ক্লুনির সঙ্গে তিনি ক্যাসামিগোস ব্র্যান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।
তবে ক্যারিয়ারের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন প্রেসলি। মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন তিনি। ২০২৩ সালে ‘স্টুডিও ২২’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসলি বলেছিলেন, মানসিক স্বাস্থ্য ও বিষণ্নতার সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করার পর তার অভিজ্ঞতা যদি একজন কিংবা একশজন মানুষকেও সেই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে, তাহলেই তিনি নিজের জীবনকে সার্থক মনে করবেন।
চলতি মাসেই ‘আমেরিকান ভোগ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসলির বোন কাইয়া গার্বারও তার ভাইয়ের মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেছিলেন। কাইয়া তার ভাইয়ের খোলামেলা স্বভাবের প্রশংসা করে জানান, পরিবারের কোনো সদস্য এমন সংকটের মধ্য দিয়ে গেলে পুরো পরিবারকেই তার প্রভাবের মুখোমুখি হতে হয়।
পরিবারের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল প্রেসলির। ২০১৮ সালে বোন কাইয়ার সঙ্গে কেলভিন ক্লেইনের একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণায় অংশ নেন তিনি। বোনের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে হাতে কাইয়ার নামের ট্যাটুও করেছিলেন। একই বছর পেপসির সুপার বোল বিজ্ঞাপনে মা সিন্ডি ক্রফোর্ডের সঙ্গে দেখা যায় তাকে। ১৯৯২ সালে ক্রফোর্ডের করা বিখ্যাত পেপসি বিজ্ঞাপনের ২৬ বছর পর মা-ছেলের এই উপস্থিতি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল।
গত জুলাইয়ে প্রেসলির ২৭তম জন্মদিনে শৈশবের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন সিন্ডি ক্রফোর্ড। সেখানে ছেলের উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, ‘তুমি যে মানুষ হিসেবে গড়ে উঠেছ, তার জন্য আমি গর্বিত। তবে আমার চোখে তুমি আজীবন সেই ছোট্ট ছেলেটিই থাকবে।’
এর মাত্র দুই মাস পরই থেমে গেল প্রেসলি গার্বারের জীবন। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে অল্প বয়সে তৈরি করা পরিচিতির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তি নিয়ে তার প্রকাশ্য লড়াইও এখন তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রইল।