September 18, 2026, 3:47 pm

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর প্রতিনিদি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নে সার না পেয়ে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। একই সময় ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের গাবতলা বাজারে ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’ নামের একটি সার ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাই ভাই ট্রেডার্সের মূল স্বত্বাধিকারী মৃত্যুবরণ করার পর ওই পয়েন্ট থেকে সার বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয় নাগেশ্বরীর অন্য এক ডিলার খায়রুল আলমকে। শুক্রবার সকালে সার পাওয়ার আশায় গাবতলা বাজার কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত হন। তবে লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে একপর্যায়ে উপস্থিত কৃষকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা গাবতলা বাজার সংলগ্ন সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং সেখানে দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করেন।

​এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সকাল ৭টার আগেই নিয়মবহির্ভূতভাবে সার বিতরণ শুরু করেন। এমনকি সাধারণ কৃষকদের না দিয়ে সারের একটি বড় অংশ ব্যবসায়ীদের কাছে গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
​ঘটনার খবর পেয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন দ্রুত পুলিশসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরবর্তী সময়ে তিনি পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় কচাকাটা থানায় নিয়ে যান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার জানান, সার না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তাকে আটকে রেখেছিলেন। পুলিশ পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ইউএনও মহোদয় আগামী পরশুদিন সার সরবরাহের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে কৃষকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করে শান্ত হন। এরপর কৃষি কর্মকর্তাকে নিরাপদে ইউএনওর গাড়িতে করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
​অবশ্য সারের অনিয়ম ও স্বল্পতার বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, অতিরিক্ত বরাদ্দ থেকে বল্লভেরখাস ইউনিয়নের জন্য মোট ৮ মেট্রিক টন (১৬০ বস্তা) ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কৃষকদের সুবিধার্থে গাবতলায় ৮০ বস্তা ও মাদারগঞ্জে ৮০ বস্তা—এই দুই কেন
কম।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা