September 8, 2026, 2:05 am

দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের ১৬ গুরুত্বপূর্ণ মেশিন, বিকল্প ব্যবস্থায় মেরামতের উদ্যোগ

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরীক্ষানিরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেশিন দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। কয়েক দফা চিঠি দিয়েও মেশিনগুলো মেরামত করাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় কয়েকটি যন্ত্রে মরিচা ধরেছে এবং সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মেশিনগুলো সচল করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারের ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ অ্যান্ড টিসি)-এর কাছে একাধিকবার চিঠি দেয়। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেগুলো মেরামতের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

এ অবস্থায় আর অপেক্ষা না করে বিকল্প ব্যবস্থায় মেশিনগুলো সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয়ভাবে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামতের প্রস্তুতি নিয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নিমিউ অ্যান্ড টিসি একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তারা মেশিন ঠিক করবে কী, ঐ প্রতিষ্ঠানেরই সংস্কার জরুরি।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। তাই জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটসহ সব বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আলাদা বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে।

তাদের মতে, হাসপাতালে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ান থাকলে পরীক্ষানিরীক্ষা, অপারেশন থিয়েটার, সিসিইউ ও আইসিইউর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের যন্ত্রপাতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা সম্ভব হবে। কোনো যন্ত্রে ত্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করে সচল করা যাবে। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী বিকল মেশিনগুলো স্থানীয়ভাবে মেরামতের উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মেশিনগুলো মেরামতের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছি। এ বিষয়ে কাজ চলছে।’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ৪০০ শয্যার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট বর্তমানে ১ হাজার ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। এরপরও সংকটাপন্ন ও জরুরি রোগীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালটিকে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫০ জন সংকটাপন্ন রোগী এখানে ভর্তি হন।

সারা দেশ থেকে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসেন। রোগীর চাপের তুলনায় জনবল সংকটের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা