September 8, 2026, 10:06 am

মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি

ইরানে তৈরি ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ী। একই সঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন নিয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পালটা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজায়ী বলেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানি ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত জাহাজটি সরে যায়।

তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন দুটি জাহাজে হামলা হলে এর জবাবে আরও কঠোর অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে এবং তিনটি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করা হতে পারে।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করতে তারা ইরানের তেলবাহী জাহাজের বহরের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।

বিপ্লবী গার্ডের সাবেক এই কমান্ডার ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের বিষয়েও সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া চলাচল করা জাহাজগুলোকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি এসব জাহাজ বিমা জটিলতা ও ভবিষ্যতে চলাচলে বিভিন্ন বাধার মুখে পড়তে পারে।

আইএইএকে পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আইএইএতে ইউরোপীয় দেশগুলোর নতুন খসড়া প্রস্তাব অনুমোদিত হলে পালটা পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান।

ইউরোপীয় দেশগুলো ও আইএইএ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর পথ তৈরি হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো অন্য ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে পারমাণবিক ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তাঁর দাবি, আইএইএর মহাপরিচালকও ইরানের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছেন।

বাঘাই বলেন, ইরান, চীন ও রাশিয়ার অবস্থান সঠিক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় এসব স্থাপনায় আইএইএর পরিদর্শনের পথও বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা