কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত হোটেল শিখা ইন-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি পর্যটকসহ মোট ৯ জনের মৃত্যু হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার সার্ভিস ওই অঞ্চলের ১৩টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানায়, ৯টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁকে নিরাপত্তা বিধি না মানার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে ব্যবসায়িক লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলটিতে ১০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন, যার মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
মৃতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক, তার স্ত্রী, শিশুসন্তান ও শ্বশুর রয়েছেন। ভারতীয়দের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী সন্দ্বীপ পাসোয়ান ও ৬৮ বছর বয়সী যোগ নারায়ণ আগরওয়াল নিহত হন। পুলিশ ইজারাদার আবুজাফরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে, যেখানে বিচারক তাকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্র জানিয়েছেন, তিনি প্রায় পাঁচ মাস আগে এটি আবুজাফর নামের এক ব্যক্তির স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে অভিযুক্তের স্ত্রী পলাতক রয়েছেন, তবে মালিকের অন্য একটি হোটেল ‘যাপন’-এর এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।