সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে উপকূলীয় ও প্রান্তিক এলাকাগুলোতে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
একটি কিশোরীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানা যায়, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে যান। পরিবারের নজরদারির অভাবে তিনি মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। বিয়ের পর স্বামীর জুয়া খেলার অভ্যাস এবং ঋণের কারণে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। পরে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং আবার পড়াশোনা শুরু করেন।
এছাড়া, শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামে ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিয়ের ঘটনা সম্প্রতি সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইন অনুযায়ী বয়স পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের হার ৭২ শতাংশ বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য প্রকাশ করেছে। দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব এবং সামাজিক অসচেতনতা এই প্রবণতার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।