মানবজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়া স্বাভাবিক। এ সময় মুমিনরা মহান আল্লাহর কাছে সঠিক পথের নির্দেশনা চেয়ে থাকে, যা শরিয়তের পরিভাষায় ‘ইস্তিখারা’ হিসেবে পরিচিত।
দারুল উলুম দেওবন্দের দারুল ইফতা এক ফতোয়ায় ইস্তিখারার প্রকৃত স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছে। তাদের মতে, ইস্তিখারা কোনো জাদুকরী প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি আল্লাহর কাছে কল্যাণ ও সাহায্য চাওয়ার একটি বিশেষ দোয়া।
ইস্তিখারার অর্থ হলো ‘খাইর’ বা কল্যাণ প্রার্থনা করা। হজরত থানভী রহ.-এর মতে, এটি আল্লাহর কাছে ভালো কাজ সম্পন্ন করার জন্য সাহায্য চাওয়ার একটি মাধ্যম। ইস্তিখারার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যে, ‘হে আল্লাহ! আমি যে কাজটি করতে যাচ্ছি, যদি তাতে আমার জন্য কল্যাণ থাকে তবে আপনি তা করার তৌফিক দিন।’
ইস্তিখারার মূল ফলাফল হলো ‘দিলের ঝোঁক’ বা অন্তরের স্বস্তি। ইস্তিখারার পর যে সিদ্ধান্তে স্থির হয়, তার মধ্যেই কল্যাণ নিহিত থাকে। দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া অনুযায়ী, সাধারণত সাতবার ইস্তিখারা করা সুন্নত ও মুস্তাহাব।
যদি সাতবার ইস্তিখারা করার পরও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না যায়, তবে ব্যক্তি যেকোনো এক দিকে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। আল্লাহর ওপর ভরসা করে যে পথেই তিনি অগ্রসর হবেন, ইনশাআল্লাহ তাতেই তার জন্য খাইর থাকবে।