July 4, 2026, 9:11 am

এইচএসি কেন্দ্র পরিদর্শনকালে পরীক্ষা হচ্ছে জ্ঞান, সততা ও মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র : ডিসি মো: রায়হান কবির

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ :

পরীক্ষা শুধু নম্বর পাওয়ার লড়াই নয়, এটি একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, সততা ও মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র। তাই শিক্ষার্থীদের অসদুপায়ের চিন্তা না করে নিজেদের যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে উত্তরপত্রে লিখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির।

শনিবার ৪ জুলাই ২০২৬ সালের এইচএসি ও সমমানের পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, এসএসসি ও এইচএসি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা। কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে পরীক্ষা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। পরীক্ষার হলে কোনো অসুস্থ চিন্তা বা অসদুপায়ের স্থান নেই। একজন শিক্ষার্থী যা জানে, সেটিই যেন সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তরপত্রে লিখে আসে।

পরীক্ষা প্রতিযোগিতার অংশ হলেও তা সুস্থ ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত উল্লেখ করে ডিসি বলেন, শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবিষয় সত্যিকার অর্থে আয়ত্ত করলে খাতায় তার স্বাভাবিক প্রতিফলন ঘটবে। এতে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরাই প্রাপ্য স্বীকৃতি পাবে।

ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা একটি মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আজ যারা পরীক্ষার হলে বসেছে, তারাই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তাই তাদের শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধও ধারণ করতে হবে।

প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করো। ছাত্রজীবনে যা শিখছ, সেটিই ভবিষ্যৎ জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, অতীতে বিভিন্ন বোর্ডের প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে বিতর্ক হতো। কোনো বোর্ডের প্রশ্ন কঠিন হওয়ায় কম নম্বরের অভিযোগ উঠত। এ ধরনের বৈষম্য দূর করতেই এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে তিনি বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়ে না ফেলে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ কলেজ, নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ সহ বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা