প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৪ জুলাই রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ বক্তব্য রাখেন। তিনি ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্যকে কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের অর্জন হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথাকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ মর্যাদা ও মূল্যায়ন প্রদান করবে।
তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জীবন দিয়েছেন, সেই চেতনাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করেছে সরকার। তিনি আশ্বস্ত করেন, আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অন্যায়ের বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা হবে, তবে আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দেশ পুনর্গঠনের পথে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, নতুন দেশ গঠনের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠিত গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এই ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’ শহীদদের সম্মান জানাতে এবং আহতদের পুনর্বাসনসহ বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়।